ক্রেস্টের এমডির ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০২:০২

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহীদুল্লাহর তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে থাকা গ্রাহকদের শেয়ার কেনাবেচার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের টার্গেট ছিল। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার নোয়াখালীর মাইজদী এলাকা থেকে শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী নিপা সুলতানা নুপুরকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে তারা এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান বলেন, এমডি ও তার স্ত্রী গত ২২ জুন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ স্টক ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ করে চলে যান। প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীর শেয়ার কেনাবেচার একশত কোটি টাকা ছিল। শহীদুল্লাহ ২২ জুন প্রতারণাপূর্বক তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। বিনিয়োগকারীরা যখন দেখল অ্যাকাউন্টে টাকা নেই, তখন তারা অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই অফিস তালা দিয়ে শহীদুল্লাহ, তার স্ত্রী এবং ভাই পালিয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আবদুল বাতেন জানান, শহীদুল্লাহ স্বীকার করেছেন যে আত্মসাতের জন্যই তিনি টাকা তুলে পালিয়েছিলেন। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী তারা শুধু এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। তবে তারা প্রায় ৬০০ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর নিয়ে ডিডের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা নিয়ে তাদের মাসে মাসে লভ্যাংশ দিচ্ছেন, যা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিও অ্যাকাউন্টধারীদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও তার মধ্যে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় ডিবি। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দুইটি মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুন টাকা আত্মসাত্ করে গা ঢাকা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রেস্টের বিনিয়োগকারীরা। তারা প্রতিষ্ঠানটির বাইরে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় ২৪ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) দুই প্রতিনিধিসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া হাউজটির মালিকরা যেন বিদেশে যেতে না পারেন, সে লক্ষ্যে ডিএসই থেকে পল্টন থানায় অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মালিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করে। এ ঘটনায় তাদের ১০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের (রমনা বিভাগ) উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাদিয়া আফরোজসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইত্তেফাক/এসি