সিলেটে কামাল আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজের এক বছর পর তার কঙ্কাল কচুরিপানা ভর্তি একটি ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় সিলেটজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় ৯ জনের মধ্যে ৩ জনকে আটক করেছে। আটক এক আসামি ঘটনার স্বীকারোক্তি দিলেও অপর দুইজন মুখ খুলছে না। তাদেরকে বুধবার (৮জুলাই) বিকালে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে এই দুইজনের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পুলিশ জানায়, বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরো জানায়, মঙ্গলবার বিকালে ওই কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে ওই দিন সকালে ঘটনার সাথে জড়িত আমির উদ্দিন (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে নিহত ব্যবসায়ীর দোকানের কর্মচারী ছিল। আমির জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম এলাকার রায়গ্রামের বাসিন্দা। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপর আসামি হেলাল আহমদ ও আব্দুস শহীদকে পুলিশ গ্রেফতার করে বুধবার বিকালে আদালতে হাজির করে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ১০ আগস্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ ব্যবসা শেষে রাতে নিজ বাড়িতে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ না পেয়ে কামাল আহমদের ভাই জালাল আহমদ ২০ আগস্ট বিয়ানীবাজার থানায় সাধারণ ডাইরি করেন। পরে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমির উদ্দিন ও আলী হোসেনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করে। পরে পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়কে (জকিগঞ্জ সার্কেল) সার্বিক দিক-নিদের্শনা দিলে সুদীপ্ত রায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিখোঁজ কামাল আহমদকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
আরো পড়ুন: করোনা পরবর্তী মাঠে ফিরলো ক্রিকেট
এরপর গত ৭ জুলাই ভিকটিম কামাল আহমদের দোকানের কর্মচারী আমির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলী হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় কামাল আহমদের অগোচরে ৮ লক্ষ টাকার মালামাল আসামি হেলাল এর নিকট বাকীতে বিক্রয় করেছিল। পরে কামাল ওই টাকার জন্য চাপ দেন।
এদিকে আমির উদ্দিন, আলী হোসেন, হেলাল আহমদ, আলী আকবর, আলীম উদ্দিন, আব্দুস শহিদ ও জুবের আহমদ কামাল আহমদকে কৌশলে গত বছরের ১০ আগস্ট অপহরণ করে আলীনগর ইউনিয়নের কনকলস সাকিনস্থ কামালের নতুন বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কামালকে হাত-পা ইলেকট্রনিকের তার দিয়ে বেঁধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে পার্শ্ববর্তী ইট ভাটার ডোবার জঙ্গলের নিচে লুকিয়ে রেখে দেয় বলে আসামি আমির স্বীকারোক্তি দেয়।
তার স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী ওই ডোবায় ডুবুরি নামিয়ে ড্রাম থেকে কামাল আহমদের ১৫ (পনের) টি হাড় উদ্ধার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার আদিনাবাদ গ্রামের মৃত রকিব আলির ছেলে কামাল আহমদ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমিরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে কামাল হত্যা রহস্য উদ্ধার হলো।’
ইত্তেফাক/এএএম
