ফেনীতে ৮ বছরের দত্তক নেয়া মেয়ে নাজনিনকে পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে বাইরে ফেলে রাখে পাষণ্ড মা-বাবা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি সংলগ্ন মোস্তফা কমিশনারের বাড়ির নিচতলা হতে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি ও অভিযুক্ত বাবা জামাল উদ্দিন ও মা নাজমা আক্তারকে আটক করে র্যাব।
র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, ৬ বছর আগে আহত নাজনিন আক্তারকে অভিযুক্ত পরিবার ফুলগাজী হতে দত্তক আনে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বাচ্চাটিকে কাজের মেয়ে হিসেবে পরিচালিত করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নাজনিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, মেয়েটি সুস্থ হলে সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বুধবার রাতে নাজনীনকে উদ্ধারকারী প্রতিবেশী রুনা ইয়াসমিন জানান, তাকে নির্যাতন করে বাইরে ফেলে রাখলে রক্তাক্ত অবস্থায় নাজনিনকে ঘরে এনে রাখা হয়। রাতভর তার জ্বর ছিল, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থান হতে রক্ত বন্ধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নাজমা আক্তারের ভাই রিপন হোসেন জানান, আমার বোনের চার ছেলে। মেয়ে নেই দেখে নাজনিনকে দত্তক নেয়। কিন্তু প্রায় মেয়েটিকে মারধর করে। মেয়েটিকে দত্তক আনা হলেও কাজের মেয়ে হিসেবে থাকত। রাতে তাকে বারান্দায় রাখা হত, কোনোকিছু হলেই নির্যাতন করা হত।
অভিযুক্ত গৃহকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামে নাজনিন আক্তারের নানা নানু হতে দত্তক নেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
