‘৬ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে খুন করেছে’ মিডিয়াতে এমন দাবি করে আলোচনায় আসেন খুন হওয়া কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুড় শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান। সাত খুনের বিচারের দাবিতে সরব থাকা সেই আলোচিত শহীদ চেয়ারম্যান (৭০) শুক্রবার রাতে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নানিল্লাহ...রাজেউন)। রাতেই তার নামাজে জানাজা শেষে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নাসিক ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের সঙ্গে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বিরোধের জেরে নজরুল ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল তাদের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নিহত নজরুলের শ্বশুড় শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নজরুলের প্রতিপক্ষ আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে র্যাব-১১ অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানা সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করেছে।
মিডিয়াতে শহীদ চেয়ারম্যানের সরব দাবিতে র্যাবের এই তিন সেনা এবং নৌ কর্মকর্তাকে র্যাব থেকে প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের বিচারকী আদালত কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের ওই ৩ কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। উচ্চ আদালত ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবত জীবন ও নূর হোসেন এবং র্যাবের ওই ৩ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন।
শহীদ চেয়ারম্যান সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে র্যাবের কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে সরব থাকায় দেশের মানুষের কাছে হিরো বনে যান।
ইত্তেফাক/এসি
