বিনাধান-১৯ হেক্টরে ফলন দিয়েছে পাঁচ টন!

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২১:১৯

খোন্দকার এহিয়া খালেদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দুই জেলায় পরীক্ষামূলক আবাদে খরাসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল আউশ ধানের জাত বিনাধান-১৯ হেক্টরে পাঁচ টন ফলন দিয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকেরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শাহ আলম সরদারের জমিতে উত্পাদিত বিনাধান-১৯ জাতের ধান কেটে পরিমাপ করে মাঠ দিবস থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানী ও কৃষি সম্প্রসারণের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

এ জাতের ধান চাষে সেচ কম লাগে। সার ও কীটনাশক সাশ্রয় হয়। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি আউশ মৌসুমে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার ৩০ একর জমিতে ৩০টি প্রদর্শনী প্লটে এ ধানের আবাদ করেন কৃষক।  পাইকেরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শাহ আলম সরদার বলেন, বিনা উপকেন্দ্র আমাকে বীজ, সার, কীটনাশক বিনামূল্যে দিয়েছে। তাদের পরামর্শে এ জাতের ধান চাষে সেচসহ অন্যান্য খরচ খুবই কম লেগেছে। গাছ হেলে পড়ে না। প্রচলিত আউশ ধানের তুলনায় এ ধান অনেকগুণ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের ধান সরু। তাই লাভবান হবে বলে আশা করছি।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলকার নাইন বলেন, আগামীতে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। সেজন্য আমাদের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করছেন। এসব জাত কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে তাদের পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপযোগী করে তুলছি। এরই অংশ হিসেবে খরাসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল আউশ ধানের জাত বিনাধান-১৯ আবাদ করে কৃষক প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, আমাদের উদ্ভাবিত খরাসহিষ্ণু স্বল্প জীবনকালের এ ধান পরিবর্তিত জলবায়ু মোকাবিলা করে কৃষককে বাম্পার ফলন দিতে সক্ষম। গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় পানি সাশ্রয়ী আউশ ও আমন মৌসুমের বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ সম্প্রসারিত করতে সরকার কৃষককে উদ্বুদ্ধ করছে। বিনাধান-১৯ জাতের ধান পরিবেশবান্ধব। গোপালগঞ্জের মাটি বেশ উর্বর। তাই এ ধান এখানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলেছে। এ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেলে দেশে ধানের উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষক লাভবান হবেন।