সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
করোনায় আর কত দিন বসে থাকবেন দেশের ফুটবলাররা। জাতীয় দল কিংবা কিছু সংখ্যক ফুটবলার ছাড়া অনেকই এখন হতাশ। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই যদি মাঠে ফুটবল না গড়ায় তাহলে পথেই বসতে হতে পারে। এমন পরিবারের সংখ্যাটাও খুব একটা কম না। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ফুটবল মাঠে গড়ানোর ব্যপারে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন চারটা মাস ধরে আমরা ফুটবলাররা অলস সময় কাটাচ্ছি। জমানো টাকা ভেঙে সংসার চালাচ্ছি। এখন বেতন পাই বলে সংকট সময়টা চলে যাচ্ছে। আর যারা তিন বেলা খেতে পারছে না তাদের অবস্থাটা একটু ভাবুন তো।’
বাফুফের সঙ্গে খেলোয়াড়রা তৃতীয় বৈঠক করেছে। খেলোয়াড়রা মাঠে নামতে চায়। শনিবার বাফুফের সঙ্গে তৃতীয় বৈঠক হওয়ার পর মামুনুলদের দাবি ফুটবল মাঠে গড়ালে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিশেষ করে যেসব ফুটবলার এখন চলতে পারছে না। মামুনুল ইসলাম বললেন, ‘পাইওনিয়র ফুটবল, তৃতীয়, দ্বিতীয় বিভাগসহ সেকেন্ড লিগের অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন যাদের সাংসারিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। ফুটবলনির্ভর পরিবার যারা তাদের অনেকেই জীবন পার করাই এখন দুরূহ হয়ে পড়ছে।’
মামুনুল বললেন, ‘বাফুফে সভাপতি সালাহউদ্দিন ভাই পজিটিভ। উনি চান ফুটবল মাঠে গড়াক। চেষ্টা করছেন খেলাটা কীভাবে মাঠে গড়ানো যায়। আমরা সব ফুটবলারের পক্ষ থেকে পাঁচ ফুটবলার স্বাক্ষরিত একটা চিঠিও দিয়েছি বাফুফেকে। আগেও আলোচনা করেছি। এবার লিখিত দিলাম।’ মামুনুল আশঙ্কা করছেন এভাবে চলতে থাকলে ফুটবলাররা বিপথে যাবেন। কর্মহীন থাকাটা জীবন বিষণ্ন করে তোলে। যারা পায়ের শিল্পী তারা তো এভাবে জীবন বাঁচাতে পারে না। এতে ক্ষতি হচ্ছে, নতুন জেনারেশন তৈরি হবে না। আমরা বুঝতে পারছি করোনার কারণে জীবন বিপন্ন। তারপরও করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মাঠে গড়িয়েছে ফুটবল। আমরা যদি স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে মাঠে খেলতে পারি তাহলে অনেক খেলোয়াড়ের জীবন বেঁচে যাবে।’
শনিবার বাফুফের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ মাধ্যমকে গোলকিপার আশরাফুল রানা জানিয়েছেন নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা প্রাণ আসবে। আমরা তো বুঝি ক্লাব চলে ডোনারদের ওপর নির্ভর করে। সবার সঙ্গে আলোচনায় বসে একটা সুন্দর পথ তৈরি করলে দেশের ফুটবলের আবার প্রাণের সঞ্চার ঘটবে।
