সকল দায় কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে কেন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২২:১৬

ইহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই যে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যথেষ্ট সচেতন হইয়া উঠিয়াছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নূতন মেয়র মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পর উল্লেখযোগ্য গতি পরিলক্ষিত হইতেছে। ডেঙ্গু হইতে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখিয়াছে। অভিযানের সপ্তম দিনে আসিয়া মোট ১৩ হাজার ৪৯১টি বাড়ি, স্থাপনার ১১৩টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গিয়াছে। ইহা ছাড়াও ৭ হাজার ৮৩০টি স্থাপনায় এডিস মশা বংশ বিস্তার উপযোগী পরিবেশ খুঁজিয়া পাইয়াছে কর্তৃপক্ষ। এই সময় ১৪টি মামলা এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হইয়াছে। যাহারা এই সকল স্থাপনার মালিক তাহাদের নিজের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখিবার সামর্থ্য নাই, ইহা বলা যাইবে না; কিন্তু তাহারা ভ্রুক্ষেপ করেন নাই।

দুই সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গুবিরোধী পদক্ষেপ প্রশংসনীয় ও সময় উপযোগী। এমনিতেই এডিস মশার প্রকোপ বত্সরের এই সময় বাড়িয়া যায়, তাহার উপর করোনা ভাইরাসের ডেঙ্গু রোগ একটি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হইয়া উঠিবার বিশাল ঝুঁকি রহিয়াছে। বেশ কিছুকাল ধরিয়াই দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ হইতেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হইয়াছে এবং হইতেছে যে প্রত্যেকের বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ডেঙ্গু মশা যাহাতে জন্মাইতে না পারে সেই জন্য নিজেরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। ইহা জনগণের প্রতি সচেতন হইবার একটি অনুরোধ; কিন্তু অনুরোধ শুনিবার মতো পরিণত নাগরিকবোধ আমাদের মধ্যে বুঝি এখনো তৈরি হয় নাই।  ইহার পরও কেবল একটি সিটি করপোরেশনে ৭ হাজার ৮৩০টি স্থাপনায় কী করিয়া প্রতিকূল পরিবেশ থাকে! সিটি করপোরেশন তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন তাহা লইয়া কোনো প্রশ্ন নাই; কিন্তু দায়িত্ব তাহাদের বলিয়া নগরবাসী হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিবে? নিজেদের পরিবেশ অনুকূল করিবার উদ্যোগ লইবে না? আমাদের বুঝিতে হইবে, সিটি করপোরেশনেরও সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে। যদি আমরা নিজেরাই খানিকটা সচেতন হই তাহা হইলে সিটি করপোরেশনের প্রতি চাপ খানিকটা কমিবে। উহাতে সিটি করপোরেশন তাহাদের সাশ্রয় হওয়া শক্তি অন্য কাজে ব্যবহার করিতে পারিবে।

যে কোনো দেশে, যে কোনো সমাজে, যে কোনো বিষয়ে মানুষ যদি নিজেরা সচেতন না হয়, তাহা হইলে জনগণ সরকারের জন্যই হউক আর কোনো সংস্থার জন্যই হউক—বোঝা হইয়া থাকে। আর এই বোঝা পিঠে লইয়া সাঁতরাইয়া আগানো বড়ই কষ্টকর হইয়া পড়ে। রাজধানী ঢাকা শহরে কমবেশি দেড় কোটি মানুষের বসবাস। ধরা যাউক, এই দেড় কোটি মানুষের সকলে যদি একটি করিয়া কলা খাইয়া তাহার খোসা রাস্তায় ছুড়িয়া ফেলায় তাহা হইলে দেড় কোটি খোসা রাস্তা হইতে সরাইবার জন্য সিটি করপোরেশনকে হিমশিম খাইতে হইবে! কলার উদাহরণ দেওয়া গেল; কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের নাগরিক সমাজসৃষ্ট বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফালাইবার অভ্যাস এখনও রপ্ত করিতে পারে নাই। তাই আমরা মনে করি, সিটি করপোরেশনের দায়িত্বের পাশাপাশি নাগরিকের নিজের দায়িত্ব ও সচেতনতার কথাও সমানতালে মনে রাখা একান্ত জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।