মিজানুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা
একটি অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করতে কাউকে না কাউকে বাতি জ্বালাতে হয়। কারো জীবনের অসহায়ত্বের আঁধার তাড়াতে কাউকে না কাউকে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হয়। পিছিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো মহান ব্যক্তির মহানুভবতার কারণে এগিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী বা ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারে। সমাজে বঞ্চিত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠী ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়ের এক সদস্য ‘অনন্যা’ এর বেলায়ও ঘটেছে এমনটিই। হাজারো বাধার পাহাড় পেরিয়ে সে আজ স্বাবলম্বী। ‘একজন মহত্ মানুষের মহানুভবতা আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে। দেখতে পেয়েছি ঝলমলে আলোর মুখ’ বললেন অনন্যা। কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু হলেও এখন সে দক্ষ বিউটিশিয়ান এবং ধামরাইয়ের ‘উত্তরণ’ বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী।’
অন্যন্যা জানান, ‘আমার জীবনকে বদলে দেওয়ার পেছনে যে মহান মানুষটির অসামান্য অবদান রয়েছে তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শুধু আমি নই, সোহাগী, নূরী, নাছিমা, আপন, কচি, মৌ, শাম্মীসহ আমার মতো আরো অনেকের জীবনকে বদলে দিয়েছেন তিনি। সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর কল্যাণের জন্য এই মানুষটির দীর্ঘজীবী হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন অনন্যা। তার ভাষায়, ‘পুলিশ বিভাগের ডিআইজি হাবিবুর রহমান স্যার তার প্রতিষ্ঠিত উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমার এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে দিয়েই ক্ষান্ত হননি। যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে পারি সে জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই মতেই ধামরাই থানা পুলিশ নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রাখছে।’ সমাজের পিছিয়ে থাকা বা অনগ্রসর মানুষগুলোর কল্যাণ কামনা করে ডিআইজি হাবিবুর রহমান বললেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। তাই চেষ্টা করছি সমাজের বঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য কিছু করতে। যদি আরো ভালো কিছু করতে পারতাম তবে আরো তৃপ্ত হতে পারতাম।’
