কক্সবাজার সৈকতে হঠাত্ ভেসে এলো বিপুল মদের খালি বোতলসহ বর্জ্য

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২২:৪৪

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হঠাত্ ভেসে এসেছে বিপুল পরিমাণ মদের খালি বোতল, প্লাস্টিক বর্জ্য, ছেঁড়া জাল ও সামুদ্রিক কাছিম। জোয়ারে এসব বর্জ্য তীরে এসে জমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কোথা থেকে এলো তা কেউ জানেন না। এনিয়ে পরিবেশ প্রেমীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ।

সৈকতের কলাতলীর সায়মন বিচ হতে দরিয়ানগর পর্যন্ত এলাকায় স্তূপ হয়ে থাকা আবর্জনার কারণ জানতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এসব বর্জ্যের তেজস্ক্রীয়তায় অনেক সামুদ্রিক কাছিম মারা পড়ছে এবং অজ্ঞান হয়ে তীরে এসে ভিড়ছে। অজ্ঞান কাছিমগুলো উদ্ধার করে আবার সমুদ্রে অবমুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

স্থানীয় অধিবাসী রাশেদুল আলম রিপন জানান, ‘শনিবার সকালের জোয়ারে সমুদ্র উপকূলের দিকে ভেসে আসতে থাকে বর্জ্য। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসে ছেঁড়া জাল ও সামুদ্রিক কাছিমও।’ ইনানীর মনখালী এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘মিয়ানমার জলসীমায় থাকা জাহাজগুলো এ সব আবর্জনা সমুদ্রে ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারে।’

কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরাও হতবাক। স্থানীয়রা হয়তো এসব বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলে বা বিক্রি করে দেয়। এভাবে তারা তা সৈকতে ফেলার কথা নয়। সৈকতে অবস্থান করা কোনো বড় জাহাজ এসব বর্জ্য ফেলেছে বলে ধারণা করছি।’ সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের ২০০ নটিক্যাল সমুদ্রসীমায় পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। বিদেশি জাহাজ থেকে আমাদের জলসীমায় বর্জ্য ফেলার অভিযোগ থাকলেও তাদের শনাক্ত বা শাস্তির আওতায় আনা যায়নি। যা আইএমও কনভেনশনের লঙ্ঘন। সমুদ্র কমিশন গঠন করে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা উচিত।’