ভারতের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শরদ পাওয়ার বলেছেন, অন্য দেশ ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চীন সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সংলাপ ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে সমাধান করা উচিত। আর বর্তমানে এটাই সত্য যে চীন ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ, পাকিস্তান নয়। তবে চীনের সাথে নয়াদিল্লি সরাসরি যুদ্ধে যেতে পারবে না।
শারদ পাওয়ার শিবসেনার মুখপাত্র ‘সামানা’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, মোদী সরকার অন্যান্য দেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলাদা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বৈদেশিক নীতিগুলিকে কখনই পরিবর্তন করিনি এবং জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী বা এমনকি অটল বিহারি বাজপেয়ীর শাসনের পরেও একই পরিস্থিতি বজায় ছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে ডেকে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। মোদী ভারতের অন্য প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে এই প্রচেষ্টা কার্যকর হয়নি।’
পাওয়ার বলেন, ‘চীন সফলভাবে ভারতের বিপক্ষে নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ সমস্ত প্রতিবেশী দেশকে কাছে টেনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মোদী প্রথম সফর নেপালে গিয়েছিলেন, অথচ তারাই এখন চীনের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে তার আনুগত্য বদল করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে দেশটি সমপ্রতি চীনের সাথে একটি চুক্তি করেছে। একই অবস্থা শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ভারতের সাথে তার চারপাশের সব দেশের দূরত্ব তৈরী হচ্ছে।’
এনসিপি প্রধান আরো বলেন, চীনের সাথে সমস্যাগুলি যুদ্ধের মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। কারণ আমাদের সামরিক শক্তি চীনের এক দশমাংশ এবং এ রকম পটভূমিতে আমরা প্রতিবেশীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করতে পারি না। এটি সত্য যে আমরা আমাদের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করেছি এবং যুদ্ধ করতে পারি এবং প্রয়োজনে মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে এর পরিবর্তে আমাদের কূটনৈতিক কৌশল ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। - দ্য হিন্দু
