চাকরির নামে ১ হাজার তরুণীকে দুবাইয়ে পাচার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২২:৫১

দুবাইয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নারী পাচার করত এমন একটি চক্রের ‘গডফাদার’সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীদের লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব দিয়ে আগাম টাকা দিত। তারপর দুবাইয়ে নিয়ে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করত। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আজম খান ও তার দুই সহযোগী আল আমিন হোসেন ডায়মন্ড এবং আনোয়ার হোসেন ময়না।

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আজম খানের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে। তার বাবা দুবাইয়ে থাকতেন। তিনি ১৯৯৬ সালে দুবাইয়ে চলে যান। দুবাইয়ে চারটি তারকাযুক্ত হোটেলের অংশীদার সে। এগুলো হলো—ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড এবং হোটেল সিটি টাওয়ার। আজম খান গত ৮ বছর ধরে নারী পাচারের ব্যবসায় জড়িত। এই সময়ে প্রায় ১ হাজার তরুণীকে দুবাইয়ে পাচার করেছেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, কিছুদিন আগে দুবাই সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে আজম খানের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। আজম খান দেশে এসে নতুন পাসপোর্ট তৈরি করে দেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আজম খান মূলত নারী পাচার চক্রের মূল হোতা।             হোটেলে কাজের নামে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার করা অল্প বয়সি সুশ্রী তরুণীদের যৌনকাজে বাধ্য করতেন। তাদেরকে (ভুক্তভোগী) মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বললেও কোনো টাকা দেওয়া হতো না। এসব ঘটনায় আসামিদের জড়িত থাকার সব অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছে সিআইডি।

ইমতিয়াজ আহমেদ আরো বলেন, আজম খানের বাংলাদেশে ৫০ জনের মতো দালাল (ট্রাভেল এজেন্সি) রয়েছে। তিনি ঐ দালালদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অল্প বয়সি নারীদের বিদেশে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। পরে তাদের ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো দিয়ে দুবাইয়ে নিয়ে তার বিভিন্ন হোটেলে চাকরি দিতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে তার ড্যান্সবারে নাচার জন্য বলতেন। পরবর্তী সময়ে হোটেলে ঐ তরুণীদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে মারধর করাসহ বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো ভুক্তভোগীদের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে আজম খানের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই সিআইডি বাদী হয়ে লালবাগ থানায় একটি মামলা করে। তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা।