রাজধানীতে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘না’

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২২:৫২

আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে পশুর হাট বসানো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুই সিটি করপোরেশন একমত হতে পারেনি। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীতে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করছে। গাইডলাইন বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী              প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। রাজধানীর বাইরে পশুর হাট বসানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে। তবে এবছর অনলাইন কেনাকাটার ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গতকাল এক সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে দক্ষিণ সিটিতে পাঁচটি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, সভায় ডিএসসিসি এলাকায় এবার পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকিগুলোর দরপত্র অনুযায়ী চলতি মাসের ১৯ তারিখ শেষ সময়। এরপর বাকি হাটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাকি হাটগুলো বসার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কম। আমরা একটি ডিজিটাল পশুর হাট বসানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ডিএসসিসি এলাকায় যেসব স্থানে হাট বসবে :উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জির সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা। প্রসঙ্গত, করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে ১৩টি পশুর হাট বাতিল করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার ডিএসসিসিতে হাট বসবে মাত্র ৫টি। এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১১টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ৬টি বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এর বাইরে দেশের সর্ববৃহত্ গাবতলী পশুর হাট যথারীতি বসবে। শনিবার ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাটের উদ্বোধন করেছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাট বসবে ডুমনি, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর, উত্তরা ময়নারটেক, কাওলা শিয়ালকান্দা, বছিলা, ভাটারা সাঈদনগরে।

হাটের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে এবার ডিএনসিসি এলাকার হাট সংখ্যা কমানো হয়েছে। আর যেসব এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেসব এলাকা ঘন জনবসতিপূর্ণ নয়। কোরবানির পশুর হাট থেকে যেন করোনা সংক্রমণ না ঘটে, সেজন্য সব হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে আমরা অসুস্থ, শিশু এবং বয়স্কদের কোরবানির পশুর হাটে না আসার অনুরোধ করেছি।

এ প্রসঙ্গে দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কোরবানির পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে কঠোরতর সুপারিশ করেছে। তবে সেখান থেকে সরে আসা দরকার। কেননা কোরবানির সঙ্গে অর্থনীতির বড় সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য কোরবানির পশুর হাট বন্ধ নয়, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে।