করোনা যুদ্ধে সচেষ্ট মাদারীপুর জেলা পুলিশ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৯:১২

দেশের প্রথম নিয়ন্ত্রিত বা লকডাউন এলাকা মাদারীপুরের শিবচর। গত ৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয় এই মাদারীপুরেই। তাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পটও বলা চলে মাদারীপুর জেলাকে। 

সম্প্রতি রাজধানীর কাছের এ জেলার শিবচর উপজেলাসহ রাজৈর, কালকিনি ও মাদারীপুর সদর উপজেলায় করোনা অনেক ছড়িয়ে পড়েছে। মাদারীপুর জেলার সিভিল সার্জন মো. শফিকুল ইসলাম এর তথ্যমতে সোমবার (১৩ জুলাই) ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত এ জেলায় মোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ৯৫১ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫২ জন, শিবচর উপজেলায় ১৪৫ জন, রাজৈর উপজেলায় ২৮৩ জন এবং কালকিনি উপজেলায় ১৭১ জন। 

এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর তথ্যমতে জেলায় মোট ৪৮ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন ৩৮ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে রয়েছে ১০ জন।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্ছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত মার্চ মাসের শুরু হতেই মাদারীপুর জেলা পুলিশ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ, মাইকিং, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারাভিযান চালিয়ে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছে। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় অসহায়-দরিদ্র কর্মহীন বেদে সম্প্রদায়, রিকশা-ভ্যানচালক, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়াও খুদেবার্তার মাধ্যমে জেলা পুলিশের নির্দিষ্ট নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে প্রয়োজন অনুসারে মানবিক সহায়তা প্রত্যাশীদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাতের অন্ধকারে।

এদিকে প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তাদের পুষ্টিকর খাবার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফলমূল ও ওষুধ সরবরাহ দেখভাল করে যাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসা সেবায় নিয়েছেন অন্যরকম প্রশংসনীয় ভূমিকা। জেলার থানাগুলোয় কর্মরত করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের গুরুত্ব বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ লাইন্স ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এবং পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রূপান্তর করা হয়েছে আইসোলেশন সেন্টারে। এছাড়াও পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য জেলার পুলিশ লাইন্স এর সদস্যদের একাংশকে স্থানান্তর করা হয় মাদারীপুরের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিল্ডিং এ।

আরও পড়ুন: ফুলবাড়ীতে বন্যার পানি বিপৎসীমার ওপরে, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘মাদারীপুর জেলার ৪টি উপজেলার ৫টি থানার সর্বত্র করোনা যুদ্ধে জেলার পুলিশ সদস্যরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছি। তারপরও আমরা থেমে নেই, আমাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই। আমরা মনোবল চাঙ্গা রেখে শুরু থেকেই করোনাযুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। আর এ যুদ্ধে জয়লাভে আমাদের সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমরা প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটি তৈরি করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই পদযাত্রায় সক্রিয় এবং অকৃত্রিম সহযোগী জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোপরি প্রিয় মাদারীপুরবাসী।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ জুলাই মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণের পর হতেই ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে পুলিশের সেবার মান। থানাগুলোতে জিডি ও মামলা করতে গুনতে হয় না কোন টাকা-পয়সা। কোন রকম হয়রানি ছাড়াই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু ও ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হচ্ছে। পুলিশি সেবায় সুস্পষ্ট মানবিকতা দৃশ্যমান। পুলিশের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ফলে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকগণ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন বলে অনেকেই মনে করেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণের সহায়তায় আরো বেশি নাগরিক সেবা প্রদান করা মাদারীপুর জেলা পুলিশের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান।

ইত্তেফাক/এএএম