ফল

কালোজাম

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ২০:২২

 

ফলের দোকানগুলোতে দেশি ফলের সমারোহ। মৌসুমি অনেক ফলের ভিড়ে একটি কালোজাম।  রসালো ও মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি শক্তির আধার।  ফলের দোকানে রসালো আঙুরের দিকে চোখ গেলেও, কালোজামে খুব একটা চোখ যায় না কারো। তবে এই ফলের খাদ্যগুণ কিন্তু অনেক দামি ফলকেও হার মানায়। জুন জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস চুটিয়ে খাওয়া যায় কালোজাম। অন্য মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীকাল কম হলেও এটি পুষ্টিগুণে অতুলনীয়।

কালোজাম গ্রীষ্মকালীন ফল। গাছটির উদ্ভব দক্ষিণ এশিয়া, সিলন, আন্দামান ও ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বাংলাদেশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর, সিলেট, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় জাম বেশি ফলে।

জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত। যেমন : জাম্বুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম, কানাডিয়ান ভাষায় নেরালে হান্নু ও ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট।

বাংলাদেশে কালোজামের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। ফলের আকার অনুযায়ী দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। একটি খুদি জাত খুব ছোটো এবং মহিষে জাত বেশ বড়ো ও মিষ্টি। জাম স্বাদে কোনোটি মিষ্টি  আবার কোনোটি টক মিষ্টি।

এবার আসা যাক পুষ্টিগুণের কথা। কালোজামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ভিটামিন সি,  ভিটামিন বি, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ। ১০০ গ্রাম কালোজামে পুষ্টিগত মান যেমন শক্তি ৬০ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২৩ গ্রাম, প্রোটিন ০.৭২ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩.০ আন্তর্জাতিক একক, থায়ামিন বি১  ০.০০৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন বি২ ০.০১২ মিলিগ্রাম, ন্যায়েসেন বি৪ ০.২৬০ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড বি ৫ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন  সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লোহা ০.১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম,  সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম ও পানি ৮৩.১৩ গ্রাম। এছাড়া রয়েছে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যাও। কালোজামে পাওয়া যায় অ্যালার্জিক নামে এক ধরনের অ্যাসিড, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে থাকে।