চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে বাধা নেই সিটির

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ২০:৫৪

স্পোর্টস ডেস্ক

উয়েফার ‘ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ নীতি লঙ্ঘন করার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলায় নিষেধাজ্ঞা নেমে এসেছিল ম্যানচেস্টার সিটির ওপর। তবে ক্রীড়া বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের পর ইংলিশ ক্লাবটির সে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। ফলে আগামী মৌসুমে ইউরোপ সেরার টুর্নামেন্টে খেলতে আর সমস্যা নেই সিটির।

উয়েফা ২০১১-১২ মৌসুম থেকে ক্লাবগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নীতি চালু করে। সে নীতি লঙ্ঘনেরই অভিযোগ ছিল সিটির বিরুদ্ধে। উয়েফার কথা ছিল, সিটি পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ব্যাপারে স্বচ্ছতা রাখেনি। মূলত ২০১৮ সালে জার্মান পত্রিকা ডের স্পাইগেলের এক প্রতিবেদনের পর থেকেই এ সন্দেহের তীর ধেয়ে আসতে থাকে সিটিজেনদের ওপর।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত উয়েফাকে দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে পৃষ্ঠপোষক থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখিয়েছে সিটি। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে কোচ পেপ গার্দিওলার দলের ওপর।

সিটি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই দ্য কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস) এ আপিল করে। তাদের দাবি ছিল, এক্ষেত্রে কোনো প্রকারের অস্বচ্ছতার আশ্রয় নেওয়া হয়নি।

ক্রীড়া আদালত প্রায় পাঁচ মাস দীর্ঘ তদন্তের পর গতকাল সোমবার আপিলের রায় দেয়। তারা জানায়, সিটির পৃষ্ঠপোষকদের থেকে পাওয়া অর্থে কোনো প্রকারের অনিয়মের আলামত মেলেনি। ফলে দুই মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় ক্লাবটির। তবে উয়েফার তদন্তে সহায়তা না করার কারণে জরিমানার আদেশ বহাল রাখে ক্রীড়া আদালত। যদিও ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ১০ মিলিয়নে নেমে এসেছে জরিমানার পরিমাণ।   

কোচ পেপ গার্দিওলা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন এমন কিছুর। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। তার আশাবাদ সত্যি হওয়ায় এখন আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে আর বাধা রইলো না সিটির। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে চেলসি, ম্যানইউ আর লেস্টার সিটির।

সিটি না খেললে তিন দলেরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্রায় নিশ্চিত থাকত, কিন্তু সিটির নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন তিন আর চারে থাকা দুই দলই কেবল খেলতে পারবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।