ড. মো. তাসদিকুর রহমান সনেট
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটি ছোট দেশ বাংলাদেশ। ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশটি সমগ্র বিশ্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগের পর যুগ ধরে অবদান রেখে চলেছে কতিপয় সেক্টর। এই সেক্টরগুলো হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প, রেমিটেন্স ও কৃষি। দেশীয় আয়ের সিংহভাগ আসে এই তিনটি খাত থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি-তে তৈরি পোশাকশিল্পের অবদান প্রায় ১৬%, রেমিটেন্স খাতের অবদান প্রায় ৪.৯৩% এবং কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৩.৬৫% । দেশটির উন্নয়নে এই তিনটি সেক্টরের দৃশ্যত অবদান ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাবে—এমনটাই ধারণা ছিল সবার। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষ ভাগে চীনে যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হয় তা পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বে। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিও এর বাইরে নয়। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন অনেকে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত কারণে দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে এবং জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ সংক্রমণের দরুন বিশ্ব বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের চাহিদা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দেশে চলে আসছেন অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্পের চাহিদা কমে যাওয়ায় বেকার হচ্ছেন দেশের শ্রমজীবীদের একটি বৃহত্ অংশ। অন্যদিকে প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসায় বেকারত্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য দুটি খাতের চেয়ে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সহজ হবে। এই বেকার জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই থাকেন গ্রামাঞ্চলে। কৃষিতে বিশাল এই জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে খাদ্য-নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র তৈরিতে অবদান রাখতে পারবে।
বর্তমান সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ও এর পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় হাতে নিয়েছে নানাবিধ উদ্যোগ। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। আজও দেশের অধিকাংশ জনগণ এই আদি ও অকৃত্রিম পেশায় জড়িত। তাই বর্তমান সরকার কোভিড-১৯ আপত্কালীন সময় ও এর পরবর্তী সময়ের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের কৃষির ওপর। তারই প্রেক্ষিতে ২০২০-২১ এর বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষি সেক্টরের জন্য। বাংলাদেশের বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার খুবই দ্রুত অনুধাবন করেছে যে, এই আপত্কালীন সময়ে কৃষিই পারে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে। যেখানে করোনা আপত্কালীন সময়ের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে দেশে খাদ্যঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ খাদ্যঘাটতি মোকাবিলায় রেখেছে এক অনবদ্য নিদর্শন। চলতি মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে অর্ধেক মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হয়, যার দ্বারা অতি দ্রুত ধান উত্তোলন নিশ্চিত হয় এবং বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ ধান উত্পাদন হয়।
কৃষিবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন ও প্রত্যাশা তিনি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে যেসব কৃষক ও কৃষিবিদগণ আক্রান্ত হয়েছেন বা জীবন উত্সর্গ করেছেন তাদের সম্মুখযোদ্ধা ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করবেন।
n লেখক: সাধারণ সম্পাদক, কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউট,
ঢাকা মেট্রোপলিটন
