নিকলীর হাওর
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ও নিকলী সংবাদদাতা
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর নিকলীর হাওরে পর্যটক আসার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়ম ভেঙে অনেকেই ঘুরতে আসছেন বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকায়।
পর্যটক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রোদারপুড্ডা এলাকায় পুলিশ প্রহরা থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্যুরিস্টরা মাইক্রোবাস, সিএনজি, মোটরসাইকেলে এসে সাজনপুর, রোদারপুড্ডা, দাড়িশ্বর প্রভৃতি এলাকায় তাদের যানবাহন রেখে অটোরিকশায় বা হেঁটে নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রবেশ করছেন। নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় কিংবা হাওরে নেমে সাঁতার কাটার সময় ডেউয়ের তোড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত শনিবার নরসিংদীর শিবপুর থেকে এসে স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান সাঁতার কাটতে নেমে হাওরে তলিয়ে যায়। দেড়ঘণ্টা পর স্থানীয় ডুবুরিরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। তাছাড়া গত শুক্রবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও মাস্ক ব্যবহার না করে নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রবেশ করায় ৪০ জন পর্যটককে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা যায়, হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিকলী উপজেলা সদরে আসেন। আগত পর্যটকরা কুর্শা থেকে মোহরকোনা পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং নৌকা নিয়ে দল বেঁধে সারাদিন হাওরে ঘুরে বেড়ান। এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুদ্দিন মুন্না জানান, রবিবারও ১৫ জনকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাইকিং করে এ ব্যাপারে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে। নৌকার মাঝিদেরও বেড়িবাঁধ এলাকায় নৌকা না রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ইউএনও জানান।
