চট্টগ্রামে রুশ নৌবাহিনী সদস্য রেডকিনের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ২২:০৫

চট্টগ্রাম অফিস

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখ থেকে ভাসমান মাইন এবং নিমজ্জিত জাহাজ উদ্ধারে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মদানকারী রুশ নৌবাহিনীর সদস্য ইউরি রেডকিনের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল সোমবার পালিত হয়েছে। এ ইউরি রেডকিনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রামে রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান।

মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে ছিল অসংখ্য ভাসমান মাইন এবং নিমজ্জিত জাহাজ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২ মার্চ তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিওনিদ ব্রেজনেভের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল করার জন্য সহযোগিতা চান। এই কাজ সম্পাদনের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অভিযান ইওএন-১২ গঠন করে বাংলাদেশে পাঠায়। ১৯৭২ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কাজ করে সোভিয়েত নাবিক এবং ডুবুরিরা সফলতার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত এবং বন্দরে নিমজ্জিত জাহাজ অপসারণ করতে সক্ষম হন।

ভাসমান মাইন এবং নিমজ্জিত জাহাজ উদ্ধারে কর্মরত রুশ নৌবাহিনীর সদস্য ইউরি রেডকিন ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণ অভিযানে কামচাটকা ফ্লোটিলা পিএম-১৫৬ জাহাজে কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সামরিক মর্যাদায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রেডকিন পয়েন্টে সমাহিত করা হয়। ইউরি রেডকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উদ্যোগে লালদীঘি এলাকায় নির্মিত হয় রেডকিন মেমোরিয়াল। এ বছরের গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইগনাতভ রেডকিন এই মেমোরিয়াল পরিদর্শন করেন।