৯৮ ভাগ রেস্তোরাঁ মানছে না তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ২২:২২

জরিপে তথ্য

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ অনুযায়ী রেস্তোরাঁ পাবলিক প্লেস এবং এই আইন অনুযায়ী রেস্তোরাঁ ধূমপানমুক্ত এলাকা। সে কারণে এ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অথচ রাজধানীর ৯৮ শতাংশ রেস্তোরাঁ মানছে না তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘ঢাকা শহরের রেস্তোরাঁয় আইন বাস্তবায়নের চিত্র পর্যবেক্ষণ জরিপের ফলাফল ও ভবিষ্যত্ করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের জুন মাসে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধায়নে ‘ঢাকা শহরের রেস্তোরাঁয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের চিত্র পর্যালোচনা জরিপ পরিচালিত হয়। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মোট ৩৭১টি (উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২১১টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৬টি) রেস্তোরাঁয় এই জরিপটি পরিচালিত হয়। যার মধ্যে ৯৮ শতাংশ রেস্তেরাঁয় সামগ্রিকভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের চিত্র উঠে আসে। অর্থাত্ মাত্র ২ শতাংশ রেস্তোরাঁঁ যথাযথভাবে আইন বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ রেস্তোরাঁয় ধূমপানের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়। ১৭.৩ শতাংশ রেস্তোরাঁয় দেখা যায় সরাসরি ধূমপানের দৃশ্য। ৯৮ শতাংশ রেস্তোরাঁয় আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি এবং ৯২ শতাংশ রেস্তোরাঁয় কোনো ধরনের সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি। জরিপে আরো প্রকাশ পায় যে, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য রেস্তোরাঁয় ধূমপানের হার ১৮.৫ শতাংশ এবং সদস্য নয় এমন রেস্তোরাঁয় ধূমপানের হার ৩৬.৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা কিছু সুপারিশ জানিয়ে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সব সদস্য রেস্তোরাঁকে অবগত করা এবং এ বিষয়ে রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভার আয়োজন, বিভিন্ন উপকরণ প্রকাশ ও বিতরণ করা; রেস্তোরাঁয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা প্রদান ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ; বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রতিপালনের শর্ত আরোপ করা এবং পালনের প্রতিবেদন প্রদান বাধ্যতামূলক করা; একটি মনিটরিং টিম গঠন, মনিটরিং ফরমেট তৈরি এবং তামাক আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত মনিটর করা; সমিতির মাসিক/ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ ও এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করাসহ আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ।