পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে এমএলএ দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেল বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি মোবাইলের দোকানের সামনে। তার এই মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস। পুলিশের বক্তব্য তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তার পকেট থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে। পরিবার এই তথ্য মানতে নারাজ। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলোতে ১২ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএমের হয়ে জয়ী হন। ছিলেন সিপিএম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তিনি এখনো সিপিএম বিধায়ক হিসেবেই রয়েছেন।
হেমতাবাদে বিন্দোলের বালিয়া দেবেন রোডের একটি মোবাইলের দোকানের বারান্দায় সোমবার সকালে তার দেহ পাওয়া যায়। নিচু চালাঘরের বাঁশ থেকে ঝুলছিল দড়ির ফাঁস। অভিযোগ, যে দড়ি দিয়ে তার গলায় ফাঁস ছিল সেটির একটি অংশ তার বাঁ হাতের সঙ্গে জড়ানো ছিল। হাতটি উঁচু হয়েছিল। মাটি থেকে মাত্র ইঞ্চি ছয়েক ওপরে ছিল পা। পকেটে চশমা, মোবাইল রাখা।
তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এমএলএ দেবেন্দ্রনাথ রায়ের জামার পকেট থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে। সেখানে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। দুপুরে সিআইডির হাতে এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে।
যদিও আত্মহত্যার তথ্য মানতে নারাজ এমএলএর স্ত্রী চাঁদিমা রায়। তার অভিযোগ, দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ফোন করে এমএলএকে রাতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে বাজারের দোকানের সামনে দেহ পাওয়া গেছে বিধায়কের বাড়ি থেকে তার দূরত্ব অনেকটা। মাঝে অনেক নির্জন জায়গা রয়েছে। সেখানে আত্মহত্যা না করে তিনি এত দূরে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন কেন? রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট সুমিত কুমার জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুইসাইড নোটে উল্লিখিত ব্যক্তি কারা তা নিয়ে পুলিশ কিছু স্পষ্ট করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, যে সুইসাইড নোটটি পাওয়া গেছে সেটির সঙ্গে বিধায়কের হাতের লেখা মিলিয়ে দেখতে হবে। হস্তাক্ষরবিদদের মতামত নিতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমএলএ আত্মহত্যা করলে তার হাত বাঁধা থাকবে কেন?? এ নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবশ্য সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কলকাতায় মৌন মিছিল করেছে। নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে যান। বিজেপির দাবি, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে সিপিএমও।
