করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে রাজধানীতে পশুর হাট বসানো নিয়ে সংকটের সুরাহা হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনলাইনে পশু বেচাকেনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পশুর হাট বসবে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির গাইড লাইন বাস্তবায়নে রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসতে দিবে না বলে গত রবিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পশুর হাট নিয়ে বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধও দেওয়া হয়েছিল। তবে গতকাল সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন উত্তরে ছয়টি এবং দক্ষিণে পাঁচটি পশুর হাট বরাদ্দ দিয়েছে। আরো বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
প্রতি বছর দুই সিটিতে ২৫টি কোরবানির পশুর হাট বসলেও করোনার কারণে ১১টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকার ও সিটি করপোরেশন অনলাইনে ডিজিটাল পশুর হাটের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরইমধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ডিজিটাল পশুর হাট উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বা অনলাইন থেকে গরু কেনাবেচার প্রতি উত্সাহিত করে তাজুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ডিজিটাল হাট উদ্বোধন করেছেন এবং সেখান থেকে নিজেও একটি গরু কিনেছেন। তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সব প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা প্রশাসন তাদের এলাকার বাস্তবতার আলোকে পশুর হাট ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ১৯ জুলাই তৃতীয় ধাপে টেন্ডার অনুষ্ঠিত হবে। করপোরেশন যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তার চেয়ে দরপত্রে বেশি মূল্য দিলে তাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাস যাবত্ দক্ষিণে অস্থায়ী পশুর হাটের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এ সময়কালে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কোনো মতামত দেয়নি। এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, আমরা ৭৫টি ওয়ার্ডের জন্য পাঁচটি মাত্র হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি । এছাড়াও ডেমরা এলাকায় বসবাস করে প্রায় ৫০ লাখ লোক বসবাস করে। এরইপূর্বে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু গতকাল হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ডিএসসিসি এলাকায় ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে তিনটি হাট ইজারা নিতে কেউ দরপত্র জমা দেয়নি। এছাড়া দুইটিতে সরকারি দরের চেয়ে কম মূল্যে দরপত্র জমা পড়েছে, যে কারণে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগে ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজির মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা এবং আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ ও সেকশন-১ ও ২ এর খালি জায়গায় হাটগুলো বসবে। এদিকে ডিএনসিসি এবার যে ছয়টি স্থানে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সবগুলোই ঢাকা শহরের বাইরে। এগুলো হলো—পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনি, কাউলা, উত্তরার বৃন্দাবন, বসিলা, উত্তরখান ও ভাটারা। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, উত্তর সিটিতে তিনটি পশুর হাট গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।এগুলো হলো—ডুমনি, ময়নারটেক ও উত্তরা ১৭ নম্বরে। মেয়র আতিক বলেন, ঢাকা উত্তরের সব হাটেই মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি।
