চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে দুইবার জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। এর প্রভাব পড়েছে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক তলিয়ে যায়। ফলে এ পথের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে দিনে ও রাতে দুদফায় চার ঘণ্টা করে আট ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় আটকা পড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) নরসিংহপুর ঘাট সূত্র জানায়, চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথের ভেদরগঞ্জের নরসিংহপুর ঘাট ও চাঁদপুরের হরিনাঘাটের মধ্যে পদ্মা ও মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে পাঁচটি কে টাইপ ফেরি চলাচল করে। নরসিংহপুর ঘাটে ফেরি ওঠা-নামা করার জন্য দুটি ফেরির পন্টুন রয়েছে। ঐ দুটি পন্টুনের সংযোগ সড়ক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। গত এক সপ্তাহ যাবত্ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ও ভোর ৬টা হতে বেলা ১০টা পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে সংযোগ সড়ক তলিয়ে থাকে। ঐ সময় কোনো যানবাহন ফেরিতে ওঠা-নামা করতে পারে না। চট্টগ্রাম থেকে মাছ নিয়ে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি নরসিংহপুর ঘাটে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, রাতেই মাছের পাইকারি বাজার ধরতে হয়। কিন্তু পানিতে ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে গাড়ি নামাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রতিযোগিতার বাজার, সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় দাম কম পাচ্ছি। ট্রাকচালক মাহাবুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ যাবত্ ঘাটের এ সমস্যা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাদের অবহেলায় আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া ব্যাপারী বলেন, জোয়ারের পানিতে ঘাটটির সংযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসিকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফেরির পন্টুনের র্যাম উঁচু করা হয়েছে ও সংযোগ সড়ক উঁচু করার জন্য ইট ফেলা হয়েছে। যা পর্যাপ্ত ছিল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
