করোনার কারণে অন্যান্য শিল্পের মতো রাবারশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় এক লাখ শ্রমিক। এঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই অবস্থায় সরকারের বিশেষ সহায়তা ছাড়া এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে না। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বর্তমানে লক্ষাধিক একর জমিতে শ্রমঘন, পরিবেশবান্ধব, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী রাবার চাষ হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দরপতন, অবাধ আমদানি আর দেশীয় বাজারে রাবার বিক্রিতে অস্বাভাবিক কর আরোপ (সর্বমোট ২৫ শতাংশ) এই খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি করে উত্পাদন খরচও ওঠে না। এভাবে এই শিল্পকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য কিছু উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি :
১. সাবেক অর্থমন্ত্রীর উপ-আনুষ্ঠানিক পত্রের আলোকে রাবার থেকে ভ্যাটসহ সব ধরনের কর প্রত্যাহার করে রাবার উত্পাদন ও রপ্তানির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের রেশন ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান।
২. রাবার উত্পাদনকারী অন্যান্য দেশের মতো রাবারকে কৃষিপণ্য ঘোষণা।
৩. রাবার রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত কর্তৃক আরোপিত বিদ্যমান সমস্যা সমাধানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০ শতাংশ ইনসেনটিভ প্রদান।
৪. রাবার আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করাসহ বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা।
৫. ভারতের মতো ০ অথবা ৩ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি রাবার ঋণ দেওয়া।
৬. শ্রীলঙ্কা, ভারত এবং থাইল্যান্ডের মতো রাবার চাষে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। কারণ একটি রাবারগাছ পরিবেশ থেকে বছরে প্রায় ১৪৪.৫ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে থাকে।
৭. কোনোরূপ কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া বাতিল করা সমস্ত রাবার প্লট পুনঃবহালের ব্যবস্থা করা। (বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রাবার বোর্ড এবং জেলা প্রশাসক, বান্দরবান)
আমরা মনে করি, উল্লিখিত উদ্যোগগুলো নেওয়া হলে রাবার চাষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন
সভাপতি
বাংলাদেশ রাবার গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, মেহেদীবাগ, চট্টগ্রাম
