করোনাতেও এগিয়ে চলেছে রূপপুর বিদ্যুত্ প্রকল্প

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ২২:৪১

সরকারের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের নির্মাণকাজ করোনা মহামারির মধ্যেও পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে চলেছে। সরকারের লক্ষাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সর্ববৃহত্ এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশি ও বিদেশি প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রকল্পে কাজ করছেন বলে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানিয়েছেন।

গত ১১ জুলাই প্রকল্পের কাজের সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শনে ড. শৌকত আকবর ঈশ্বরদীর রূপপুরে এলে ইত্তেফাককে জানান, শিডিউল অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলেছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাজের গতি পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুটি ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবন নির্মাণের কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ঈশ্বরদীর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের নিমিত্তে প্রথম ইউনিটের মূল স্থাপনার কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করেন। পরের বছরই দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ড. শৌকত জানান, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি প্রথম ইউনিটের এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্প এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিদিনই তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। তাপমাত্রা বেশি থাকলে সাত দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। এরপর আবারও পরীক্ষা করে সুস্থ মনে হলে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কাজ করার সময়ও তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। রাশিয়ান ও প্রকল্পের মেডিক্যাল টিম এ কাজে সব সময় নিয়োজিত রয়েছে।  বিদেশ থেকে আগতদের নমুনা পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হচ্ছে। তদুপরি আসার পর ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। কঠোরভাবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ায় নির্মাণকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংবলিত থার্ড প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের কনটেইনমেন্ট ওয়াল দৃশ্যমান হয়েছে। প্রথম রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভ্যাসেল স্থাপন করা হবে বলে জানালেন প্রকল্প পরিচালক। ইনস্টলেশন করা যাবে না, তবে দ্বিতীয় ইউনিটও এ বছরই নির্মাণ করা হবে। প্রথম রিঅ্যাক্টর ইউনিটের সব যন্ত্রপাতি এ বছরই চলে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ ও ইনস্টলেশন শেষ হবে।

ড. শৌকত আকবর জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন কারখানায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। যন্ত্রপাতি নির্মাণের কাজ তদারকির জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পে কর্মরত বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

করোনা পরিস্থিতিতেও মেগা প্রকল্প রূপপুরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আশা করা যায়, টাইমলাইন অনুযায়ী ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্ সরবরাহ সম্ভব হবে।