সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মারুফ রেজাকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
মারুফ রেজা নিজে পিস্তল দিয়ে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পিবিআই। এ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলীসহ চার আসামি কারাগারে রয়েছেন।
এই মামলায় মারুফ রেজার আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু শুনানিতে বলেন, এই মামলার অধিকতর তদন্তে মারুফ রেজাকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ৩২ বছর পর তাকে মিথ্যাভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাকে জামিন দেওয়া হোক।
জামিনের বিরোধিতা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ বলেন, ‘৩২ বছর আগে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। তত্কালীন এক মন্ত্রীর ভাগনে হওয়ায় মারুফ রেজা প্রভাব খাটিয়ে মামলার আসামি হওয়া থেকে বাদ যান। এই আসামির আবেদনের কারণে ২৮ বছর মামলার অধিকতর তদন্ত স্থগিত ছিল। পরে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ মামলার কার্যক্রমের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। তদন্ত যায় পিবিআইয়ের হাতে। পরে তদন্ত করে পিবিআই চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। চার্জশিটভুক্ত চার আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঐ জবানবন্দিতে ৩২ বছর পর থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। সত্যের জয় হয়। মামলাটির বিচার সম্পন্ন হলে প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছি। এ অবস্থায় জামিন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে।’
মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যায় জামিন
হয়নি মোহাম্মদ আলীর
মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় জামিন পাননি আসামি মোহাম্মদ আলী। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন ফারুক আহমেদ। তাকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। এই মামলায় ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০, ৩৪ ধারায় রানা ও তার তিন ভাইসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করে আদালত। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
এই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মোহাম্মদ আলী। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল মুনতাকিম ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন। বশির উল্লাহ বলেন, আদালত মোহাম্মদ আলীকে জামনি না দিয়ে নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করতে বলেছেন।
