পানিবন্দি মানুষের চরম দুর্ভোগ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বানের পানিতে কোথাও কোথাও ভেসে গেছে হাঁস, মুরগি। গো-খাদ্যের সংকটে খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এদিকে পানিবন্দি মানুেষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সাহায্য অপ্রতুল বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার এ অবনতিতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় কয়েক লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ইত্তেফাকের ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদেও পাঠানো খবর— 

সিলেট ও সুনামগঞ্জ: সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা কবলিত তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন। সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক ও গোয়াইনঘাট জাফলং, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানিতে প্লাবিত। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা পর্যান্ত ছিল না। এদিকে সুনামগঞ্জে জেলা সদরের সঙ্গে প্রায় সবগুলো উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সোমবার সরকারি কলেজ আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ ও সুনামগঞ্জ পৌর চেয়ারম্যান নাদের বখত। এছাড়া জেলা প্রশাসন বিভিন্ন হাওর পারে বিভিন্ন স্থানে নিরন্নদের রান্না করা  খাবার দিয়েছে। 

দিনাজপুর: দিনাজপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ফের প্লাবিত হয়েছে। জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপত্সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। দিনাজপুর সদরের মাঝাডাঙ্গা, বাঙ্গীবেচা ঘাট, সাধুর ঘাট, হঠাত্পাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কাহারোল উপজেলার বলেয়া ও ভেলোয়া গুচ্ছ গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর, সুজাপুর, খয়েরবাড়ী ও বেতদিঘি, বিললসহ কয়েক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  

কুড়িগ্রাম: গতকাল কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর মহাসড়কের দুটি স্থানের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। নতুন করে জেলার ৬০টি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত আড়াইলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে হাসঁ-মুরগি। দোকানঘরে পানি ওঠায় জিনিষপত্র ভিজে লোকসান গুণতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। এদিকে নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে ডুবে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। মৃত লামিয়া খাতুন উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার চারটি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৩০ হাজার ৮৭৬ পরিবারের এক লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য, নারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসামগ্রী ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে আশ্রয়কন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী বলেন, ৩২০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা, চার লাখ টাকার শিশুখাদ্য, দুই লাখ টাকার গোখাদ্য ও তিন হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। যা বিতরণ চলমান রয়েছে।

জামালপুর: জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ,বকসিগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে  প্রায় ৪০টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গত সোমবার রাতে ইসলামপুরে স্রোতের ধ্বাক্কা খেয়ে একটি বরযাত্রীর নৌকা ডুবে এক জনের মৃত্যু এবং এক জন নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে বন্যা এলাকা পরিদর্শন করেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোখলেছুর রহমান ও জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী।

সিরাজগঞ্জ: পানি বৃদ্ধির ফলে চৌহালী, শাহজাদপুর, বেলকুচি, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল গুলোর নিচু এলাকার হাজারো ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের মাঝে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সংকটে পড়েছে মানুষ।

পাবনা: কয়েকদিন ধরে পদ্মা-যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর পানি পাবনায় কমলেও উজানের ঢল আর টানা বর্ষণে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করছে পাউবো সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নদী ভাঙ্গনের ফলে পাড়ের মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): পদ্মা নদীর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় পদ্মার পানি বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পদ্মা নদী তীরবর্তী দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।