আজ বুধবার বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এদেশের প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। সকাল ৯টায় রাজশাহীর স্থানীয় চার্চে নেওয়া হবে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ। সেখানে ধর্মীয় আচার শেষে মরদেহ নেওয়া হবে রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠের পূর্বপার্শ্বের খ্রিষ্টানদের কবরস্থানে।
কবরস্থানে ঢুকতেই বাম পাশের একটি স্থান তার বিশেষ পছন্দ। জায়গাটি তিনি পরিবারের সদস্যদের আগেই দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে। এই কবরস্থানেই সমাহিত হয়েছেন শিল্পীর বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ। জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধার জন্য এন্ড্রু কিশোরকে নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। করোনা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।
‘মৃত্যুশয্যায় বারবার ছেলেমেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। জানতে চেয়েছিলেন ছেলেমেয়েদের অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে পৌঁছতে কত দিন লাগবে?’ বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর সোমবার রাজশাহীতে পৌঁছেছেন এন্ড্রু কিশোরের মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সজ্ঞা।
গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে যান এন্ড্রু কিশোর। এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস জানান, অস্ট্রেলিয়ায়ই মেয়ে সজ্ঞা বাবা এন্ড্রু কিশোরের একটি ছবি বাঁধাই করেছিলেন। বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে দেশে ফিরেছেন এন্ড্রুর মেয়ে। এছাড়া নিজেই ডিজাইন করে এনেছেন বাবার শেষ আয়োজনের ব্যানার। মৃত্যুর আগে এন্ড্রু কিশোর বলে যান, হঠাত্ চলে গেলেও ছেলেমেয়েদের শেষ দেখার জন্য যেন অপেক্ষা করা হয়। এর আগে বাবার মৃত্যুর খবরের তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছেছেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে জুনিয়র এন্ড্রু সপ্তক। রাজশাহীতে এসেই তিনি ছুটে যান হাসপাতালের হিমঘরে বাবাকে একনজর দেখতে। এ সময় কফিনে মোড়ানো বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাকে বলা হয় ‘প্লে-ব্যাক সম্রাট’। আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পী ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সিঙ্গাপুরেই ছিলেন চিকিত্সার জন্য। কেমোথেরাপি ও রেডিও থেরাপি চিকিত্সার পরও দ্বিতীয় দফায় তার দেহে ক্যানসার বাসা বাঁধে। ফলে চিকিত্সকরা হাল ছেড়ে দেন। তাই শিল্পীর ইচ্ছায় তাকে দেশে আনা হয় গত ১১ জুন। এরপর থেকে রাজশাহীতে চিকিত্সক বড় বোনের বাসায়ই ছিলেন।
