কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় দুই উপজেলার ১ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শুকনা খাবারের জন্য পানিবন্দী মানুষের হাহাকার অবস্থা হয়ে পড়েছে। এছাড়াও দু’টি উপজেলায় ইউনিয়নগুলোর সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৬০টি গ্রামে ৭০ হাজার মানুষ ও রাজিবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৩২টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় তারা রান্না করে খাবার খেতে না পাড়ায় শুকনা খাবারের জন্য হাহাকার অবস্থায় পড়েছে বন্যাকবলিত পানিবন্দী পরিবারের মানুষ।
রৌমারী উপজেলার খনজনমারা বেঁড়িবাঁধের তিনটি, ঝগড়ারচর বেঁড়িবাঁধের দুইটি, সাহেবের আলগা বেঁড়িবাঁধের দুইটি স্থানে গত বছর বন্যা ভেঙে যায় ও রাজিবপুরের কোদালকাটি নামক দু’টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এ দুই উপজেলার বাঁধের ভেতরে বসবাসকারী প্রায় ৮০ভাগ মানুষের বাড়িতে বন্যার পানি ওঠে পড়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের, ডিগ্রিরচর, ইটালুকান্দা, গাছবাড়ী, আমবাড়ী, পারেরচর, গয়টাপাড়া, কাউনিয়ার, খেতারচর, ছাটকরাইবাড়ী, হরিনধরা, ধর্মপুর, কাউয়ারচর, ঝগড়ারচর, চরশৌলমারী ইউনিয়নের, চরইটালুকান্দা, কাজাইকাটা, চরকাজাইকাটা, শান্তিরচর, ঘুঘুমারী, চরঘুঘুমারী, চরশৌলমারী, পাখিউড়া, খেদাইমারী, জামাইপাড়া, পয়েস্তিপাড়া, খাসপাড়া, বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী, বাগুয়ারচর, বলদমারা, ঝুনকিরচর, ভেরামারা, তিনতেলীচর, পশ্চিশ খনজনমারা, বাইশপাড়া, কুটিরচর, ফলুয়ারচর, পালেরচর, চরবাঘমারা, যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর, ধনারচর নতুন গ্রাম, তিনতেলীরচর, খেওয়ারচর, বাওয়ারগ্রাম, বকবান্ধা নামাপাড়া, লালকুড়া, লাঠিয়ালডাঙ্গা, রৌমারী ইউনিয়নের, চান্দারচর, ইছাকুড়ি, চুলিয়ারচর, বামনেরচর, চরবামুনেরচর, রতনপুর, বড়াইবাড়ী, বুন্দুরচর, রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের কেচোঁমারি, টাঙ্গালিয়া পাড়া, বদরপুর, মেম্বার পাড়া, মুন্সি পাড়া, আজগর দেওয়ানি পাড়া, টাঙ্গালিয়া পাড়া, কোদালকাটি ইউনিয়নের তেরো রশি পাড়, কোদালকাটি,সাজাই, চর সাজাই, মেম্বর পাড়া, মাষ্টার পাড়া, পাইকানটারি পাড়া, বাজার পাড়া, শংকর মাদবপুর, কারিগড় পাড়া, পাখিউড়ার, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চরনেওয়াজি, ফকির পাড়া, নয়াচর বাজার পাড়া বল্লভ পাড়া, মাষ্টার পাড়া, সবুজপাড়া, নাওশালা, কীর্তনতারি, বড়বেড় চর। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
এ ছাড়া নদী ভাঙনে রৌমারীর চরশৌলমারী, বন্দবেড় ও যাদুরচর ইউনিয়নের ৫২টি, রাজিবপুরের কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ২৮টি পরিবার বাস্তহারা হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দিরা পরিবারগুলো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ায় তাদের দু’চোখে হ্যতাশা ছাপ দেখা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ২৪.৭১ সে. মি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০১ সে. মি উপর প্রবাহিত হচ্ছে।
রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (রাজিবপুর অ:দা:) মো. আজিজুর রহমান বলেন, রৌমারী উপজেলায় দুই ধাপে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩৬টন জিআর চাউল, ৩লক্ষ ষাট হাজার টাকার শুকনা খাবর, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুইশত প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৬টন জিআর চাউল, ১লক্ষ পচিশ হাজার টাকার শুকনা খাবর, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে একশত প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এইসব ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আল ইমরান বলেন, বন্যা পানিবন্দি পরিবারের মাঝে জিআর চাউল, শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ গত বছর বন্যা ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঁধে’র ভেতর ও বাহিরে বসবাসকারী প্রায় সকলেই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
ইত্তেফাক/এএম
