সিপিএলের প্রস্তাবে তাদের ‘না’

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২১:১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনাকালীন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) সবরকম প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে আছে। ১৮ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ছয় দলের সিপিএল। করোনার কারণে এবার সিপিএলের ৩৩টি ম্যাচই হবে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোয় এবং সবগুলোকে রাখা হবে একই হোটেলে। দর্শকহীন মাঠেই খেলা হবে।

এবারের সিপিএলে থাকছে না বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার খেলবেন না এই টি-২০ লিগে। ড্রাফটে ১৮ জন ক্রিকেটার থাকলেও কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার নেই সিপিএলের দলগুলোতে। তবে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুস্তাফিজুর রহমানের সামনে সুযোগ ছিল সিপিএল খেলার। টুর্নামেন্টের দলগুলো যোগাযোগ করেছিল তিন ক্রিকেটারের সঙ্গে। তিন জনই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি, সামনে শুরু হতে পারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ—সব মিলিয়ে সিপিএলে খেলার সুযোগ লুফে নেননি তারা কেউই।

তামিমকে ৯০ হাজার ডলার পারিশ্রমিকে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু তাদেরকে ‘না’ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

গতকাল বিডিনিউজকে এই প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘প্রস্তাবটি যথেষ্টই আকর্ষণীয় ছিল। তবে অনেক কিছু ভাবনায় রাখতে হয়েছে আমাকে। প্রথমত, আমাদের দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখনো খুব ভালো নয়। আমি খেলতে যাওয়ার পর আমার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত ফিরে আসা খুব কঠিন। ক্যারিবিয়ানে ও সারা বিশ্বের বিমান যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক নয়। এত সব দুর্ভাবনা নিয়ে খেলাও কঠিন।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তামিমের ক্লাব এবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর শুরু হতে পারে প্রিমিয়ার লিগ। সিপিএলের প্রস্তাব ফেরানোর পেছনে প্রিমিয়ার লিগের ভাবনাও ছিল তামিমের মনে। বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘এছাড়া ঈদের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা যদি শুরু হয়, সেটিও ভাবতে হয়েছে। কারণ, আমার ক্লাব আমাকে ঘিরেই দল ও পরিকল্পনা সাজিয়েছে। সব মিলিয়েই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিপিএলের যে ফ্র্যাঞ্চাইজি আমার প্রতি আগ্রহী ছিল, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েই বলেছি যে, এই পরিস্থিতিতে যাওয়া কঠিন।’ ২০১৩ সিপিএলে সেন্ট লুসিয়া জুকসের হয়ে খেলেছিলেন তামিম।

পরিবার থেকে ক্যারিবিয়ানে যাওয়ার অনুমতি পাননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমাদেরকে মানতে হবে কোভিড-১৯ এর কারণে পরিস্থিতি ভালো নয়। প্রস্তাবটা আমি আমার পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম এবং তারা এখানে সম্মতি দেয়নি। আমিও ভেবেছি যে, আমার কারণে তাদেরকে চিন্তায় ফেলা ঠিক হবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়া বেশ ঝক্কির, ট্রানজিট, অনেক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। আপনি জানেন না কীসের মুখোমুখি হতে হবে।’

২০১৭ সালে সিপিএলে জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মুস্তাফিজ এখনো সিপিএলে খেলেননি।