দিশেহারা চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তীব্র হচ্ছে ভাঙন। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক লোকালয়। প্রবল নদীভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার লোকজন। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এক চর থেকে অন্য চরে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধি গত বছরের রেকর্ড ছাড়ানোর অপেক্ষায়। গত বছরের ১৮ জুলাই যমুনায় সর্বোচ্চ বিপত্সীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে হু হু করে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এবার এ রেকর্ড ভাঙতে পারে দু-এক দিনের মধ্যে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান বলেন, পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার সকাল ছয়টায় সেখানে ১৭ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাত্ যমুনায় বর্তমানে বিপত্সীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার।
জেলা প্রশাসকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্র জানায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৯৮টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৭২। বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ। খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে কৃষকের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির পাট, ধান, বীজতলাসহ আবাদি ফসল। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে প্রবল স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফুঁসছে যমুনা। ভাঙছে নদীর কূল। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সারিয়াকান্দির আউচারপাড়া, সুজনেরপাড়া, উত্তর শিমুলতাইড়, মানিকদাইড়সহ বেশ কয়েকটি চরের জনপদ। বসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মসজিদ, কবরস্থান ভেঙে বিলীন হচ্ছে চর। এসব চরের পাটের ফসল পানিতে নিমজ্জিত। যমুনার ঢলে ভাসছে দলিকা, হাটবাড়ি, বিরামের পাঁচগাছি, খাটিয়ামারিসহ বিস্তীর্ণ চরের অর্ধশত লোকালয়। নদীভাঙনে দিশেহারা ফিরোজ হোসেন খন্দকার বলেন, ‘কয়দিন আগেও এটি চারশডা ঘরের বসতি আচলো। স্কুল, ক্লিনিক, মসজিদ সবই আচলো। এখন সবই লদীর প্যাটত।’ তিনি বলেন, ‘১০ বিঘা জমির পাটের খ্যাতসহ আবাদি জমি, বাপ-দাদার বসতভিটা চোখের সামনে লদীটা খায়্যা ফালাল। কিচ্চুই করবার পারনো না।’ উত্তর শিমুলতাউড় চর নদীভাঙনে বিলীনের পথে। লোকালয়ের সঙ্গে এখানে বিলীনের পথে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকও। চরের বাসিন্দা সোহেল শেখ বলেন, ‘এক মাস আগেও লদী আচলো দুই-আড়াই কিলোমিটার দূরত। হঠাত্ শুরু হলো ভাঙনের তাণ্ডব। এক মাসেই চাড়ডা চর ভাঙে পুরোডাই শ্যাষ।’ এভাবে আউচারপাড়া, কাকালীহাতা, সুজনেরপাড়া ও উত্তর শিমুলতাইড় চরের প্রায় দেড় হাজার বসতবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়েছে বলে জানান চরের বাসিন্দারা। ফয়েজ শেখ বলেন, ‘বসতভিটাটা হারানো, সঙ্গে সাতবিঘার পাট। এখন অন্য চরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্চি।’
