দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব এবং এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেবা নিতে আসা রোগীরা চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বেশিরভাগই বাইরে থেকে করতে বাধ্য হন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ এনায়েত আলী জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খাতা কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সে অনুযায়ী বাড়েনি। হাসপাতালটিতে ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র এক জন। এছাড়া স্টোর কিপার, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ ৪র্থ শ্রেণির ২২টি পদের ১৬টি শূন্য রয়েছে। প্যাথলজি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে রেডিওলজিস্ট না থাকায় এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এই উপজেলা ছাড়াও পাশের বটিয়াঘাটা, রামপাল, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার শত শত রোগী চিকিত্সা নিয়ে থাকেন। যে কারণে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন সাধারণ রোগী আসে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বেড না পেয়ে বারান্দায় গাদাগাদি করে রোগী থাকতে দেখা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি বাসতি মণ্ডল, মিতালী মণ্ডল, আবেদা বেগম, ইসলাম শেখসহ একাধিক রোগীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এই হাসপাতালে সিজার, জটিল রোগের অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিত্সা ব্যবস্থা থাকায় এখানে সবাই চিকিত্সা নিতে আসেন। কিন্তু রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় সব সময় সিট পাওয়া যায় না। এখন করোনার কারণে রোগীর চাপ কম বিধায় সিট পাওয়া গেছে। তবে অনেক পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়। যে কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া ভবনটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আবার অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় অপারেশন করতেও হচ্ছে নানা সমস্যা। আগে প্রতিদিন অনেক রোগীর চাপ থাকতো। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের ভয়ে রোগীর চাপ কম। বেশিরভাগ রোগী ভর্তি না হয়ে চিকিত্সা নিয়ে চলে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় ভর্তি হয়ে সেবা নিয়ে সন্ধ্যায় চলে যাচ্ছে। হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদেরও চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য ৬ বেডের একটি আইসোলেশন ওয়ার্ডও খোলা হয়েছে। তবে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে প্রয়োজনীয় জনবল দিলে মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কী কী সমস্যা আছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে লিখিতভাবে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
