প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বিড়ম্বনায় দুই লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২১:৪৩

পৃথকীকরণ জটিলতায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

২০০৬ সালে সরকারি গেজেটে নতুন উপজেলায় আত্মপ্রকাশ করে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী। এটি জেলার ১২তম এবং সর্বকনিষ্ঠ উপজেলা। কিন্তু দেড় যুগেও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ মধুপুর থেকে পৃথক না হওয়ায় ধনবাড়ীর সোয়া দুই লাখ মানুষ প্রজনন ও স্বাস্থ্য সেবায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মধুপুর উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে ধনবাড়ীকে আলাদা উপজেলা ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সব দপ্তর ধনবাড়ীতে চালু হয়। কিন্তু ১৪ বছরেও মধুপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ পৃথক হয়নি। এখনো মধুপুর অফিস ধনবাড়ীর কাজ দেখাশোনা করেন। এর মধ্যে এক বছর হলো, মধুপুর উপজেলা প.প. কর্মকর্তার পদ শূন্য। ঘাটাইল উপজেলা প. প. কর্মকর্তা এখানে বাড়তি দায়িত্ব পালন করেন। কয়েকজন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জানান, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা, সক্ষম দম্পতির স্থায়ী ও অস্থায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সেবা দান, নরমাল ডেলিভারি করানো, প্রসূতি ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা এবং করোনাকালে সচেতনতা কার্যক্রমে এখন হাড়ভাঙা খাটুনি। এক উপজেলার বাজেট ও লোকবল দিয়ে চলছে দুই উপজেলার কাজ। ফলে সন্তোষজনক সেবা, সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য পণ্য থেকে বঞ্চিত  হচ্ছেন সেবা প্রার্থীরা। অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মী শামসুল হক জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় পৃথক প. প. বিভাগ চালু না করায় নতুন পদ সৃজন বা নিয়োগ বন্ধ। প্রায়  চার কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর আগে ধনবাড়ী উপজেলা প. প. অফিস এবং বলিভদ্র ও বানিয়াজান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা অব্যবহূত থাকছে। এদিকে মধুপুর উপজেলায় বেড়িবাইদ, কুড়ালিয়া, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন করায় স্টাফ সংকটে হিমশিম খাচ্ছে মধুপুর প. প. অফিস। ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাসরীন আখতার জানান, ওষুধপত্র,  জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী, বেতনভাতা, টিএডিএ ও বোনাসের টাকা আনতে মধুপুর যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় ঘটে। মধুপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, এখানে ১৪০ স্টাফের মধ্যে ৪৩ পদ শূন্য। প্রশাসনিক পৃথকীকরণ না হওয়ায় ধনবাড়ীর প্রায় ৪৫ হাজার দম্পতি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। টাঙ্গাইল জেলা প. প. এর উপপরিচালক লুত্ফুল কিবরিয়া জানান, বিষয়টি ঝুলে থাকায় মাঠ পর্যায়ে খুবই সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনিক পৃথকীকরণের কাজ চলছে। সিদ্ধান্তটি কেবিনেট ভিডিশনের অনুমোদনের  অপেক্ষায় রয়েছে।