পালটে যাচ্ছে ধানমন্ডি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২১:৫০

আধুনিকায়ন হচ্ছে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত

নিলয় মামুন

পালটে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ধানমন্ডির সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাতের চিত্র। সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন এই এলাকার সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাতগুলো সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাবে এলাকাবাসী। এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে করপোরেশন। লাল ইট ও টাইলসের কারণে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে নান্দনিক আবহ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উন্নয়ন কাজ শেষ হতে আরো প্রায় চার মাস সময় লাগবে। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০ কিলোমিটার রাস্তা, ১৬ কিলোমিটার নর্দমা ও ১৪ কিলোমিটার ফুটপাত। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকায় ড্রেনের মধ্যে আর বৃষ্টির পানি জমে থাকবে না। পথচারীবান্ধব করার জন্য ফুটপাতগুলো নির্মাণ করা হয়েছে ঢালু করে। যাতে চলাচল করতে সহজ হয় এলাকাবাসীর।

এই প্রকল্পের আওতাধীন সড়কগুলো হলো: ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়ক, ২ নম্বর সড়ক, ৫ নম্বর সড়ক, ৭ নম্বর সড়ক, ৮/এ, ১২ /এ, সাত মসজিদ রোড, ২৭ রোডসহ দক্ষিণ সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ সড়ক। গত সোমবার ধানমন্ডি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৭ নম্বর ও ৮/এ সড়কে শ্রমিকরা নর্দমা ও ফুটপাতে লাল ইট বসানোর কাজ করছেন। তাদের একজন সোহেল রানা জানান, তিনি প্রায় চার মাস ধরে কাজ করছেন। করোনার মধ্যেও কাজ থেমে নেই। খুব তাড়াতাড়িই তারা কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানান।

এই এলাকার পথচারী মালেক আহমেদ জানান, ফুটপাতগুলো ভালো না হওয়ায় এতদিন আমাদের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু এখন পথচারীবান্ধব ফুটপাত হওয়ায় ফুটপাত ব্যবহার বাড়বে। এই এলাকার আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, নর্দমাগুলো ঢেলে সাজানোর কারণে এখন পানি আর জমে থাকবে না। এ বিষয়ে এলাকার কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা বলেন, আগে নর্দমা ছোট হওয়ায় পানি জমতো, এখন সেটি বড় করে নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কগুলোও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এর মাধ্যমে এলাকাবাসী সুফল পাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, শুধু ধানমন্ডি ১৫ নম্বরই নয়, কলাবাগান, হাজারীবাগ ও মতিঝিলেও এ ধরনের ড্রেনেজ, সড়ক ও ফুটপাতে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আমরা এরই মধ্যে বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেছি। সেই কার্যক্রমের আওতায় আমরা জলাশয় পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরু করেছি। নর্দমাগুলোও পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরু করেছি এবং সেগুলো মাসে দুই বার পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া জলাবদ্ধতা দূর করতে আমরা মহাপরিকল্পনার আওতায় প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করব।