মহামারি মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধুর দর্শন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২২:১১

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্ব ও বিশ্ববাসী মহাসংকটে পতিত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর বাণীসমূহ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন আজও আমাদের মুক্তির পথ দেখায়। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনে রয়েছে কঠিন সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার অমৃততুল্য সঞ্জীবনী শক্তি। সেখানে বঙ্গবন্ধু তার জীবনে হাজারো সমস্যা, প্রতিকূলতা, বিপদ, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে বাংলাদেশ ও বাঙালির চির শত্রু প্রচণ্ড শক্তিশালী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সৈনিকদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সক্ষম হয়েছিলেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। তাহলে আজ কেন আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে কিছু নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নামক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারব না? যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন দেশের কান্ডারি, অন্ধকারের মধ্যে আলোর দিশারি, বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য কন্যা, সফল রাষ্ট্রনায়ক, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন ও কর্ম আমাদের চিন্তা-চেতনাকে করে উন্নত, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে এবং সংকট মোকাবিলায় অসীম সাহস জোগায়। যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে, ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মতো বাংলাদেশের মানুষও করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অজানা সংকটে পড়ে কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করা। যে যেভাবে পারি সেভাবেই মানুষকে সাহায্য করতে হবে। মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকে তার নিজ নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য অবশ্যই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। সত্যিই দেশ, দেশের মানুষ আজ এক মহাসংকটে পতিত। এ অবস্থায় শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকেই সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এ সময় নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবার সময় না, হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার সময় না। মানুষকে বাঁচাতে বাস্তবতার নিরিখে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বর্তমান পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে হবে। রক্ষা করতে হবে নিজেকে, রক্ষা করতে হবে নিজের পরিবারকে, প্রতিবেশীদের, আত্মীয়স্বজনকে। বাঁচাতে হবে অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষকে, বাঁচাতে হবে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের। সত্যিকারের সাহসী বীরযোদ্ধাদের মতোই চিকিত্সাসেবা প্রদান করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষা করতে হবে। জনসচেতনতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে। আর এসব করার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রকৃত সৈনিকের পরিচয় দেওয়া সম্ভব। সেজন্য আমি বলেছি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসী প্রকৃত সৈনিকের পরিচয় দেওয়ার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে সততার সঙ্গে মানুষকে বাঁচানোর জন্য আত্মনিয়োগ করতে হবে। মানুষকে সেবা করতে গিয়ে এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি, চুরি ও অর্থ আত্মসাতের মতো অসদুপায় অবলম্বন না করি এবং এই সময় কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে জাতির পিতার মতোই যোগ্য নেতৃত্বদানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সবারই উচিত জাতির পিতার জীবন দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিচলিত না হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে সহায়তা করা। বঙ্গবন্ধুকে যেমন কোনো বাধা, ভয়-আতঙ্ক, আঘাত, প্রতিকূলতা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর যাত্রাপথ থেকে সরাতে পারেননি, তেমনিভাবে আমাদেরও করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের লড়াইয়ের পথ থেকে সরাতে পারবে না। অর্থাত্ বঙ্গবন্ধু যেমন কোনোকিছুতে ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন এবং সফল হয়েছেন; আমাদেরও করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে এবং সফল হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন ও শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করতেই হবে এবং মুক্ত হতে হবে এই ভাইরাস থেকে। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত করতে হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যেভাবে বঙ্গবন্ধু একটি সচল, কার্যকরী, মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন সেভাবেই বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে মহাসংকটে পতিত বাংলাদেশকেও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন; আলোর পথ দেখাবেন বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বকে—সেই প্রত্যাশা করি।

n লেখক :অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ ও কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়