নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তিতে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদ সৃজন জরুরি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২২:১২

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে—যার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান এদেশের কৃষকের। সারা পৃথিবীতে করোনার থাবায় অর্থনীতি আজ চরম বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে একথা সত্য যে, এই করোনাকালে না খেয়ে মানুষ মারা যায়নি। তবে কথা হলো, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও আজো অর্জিত হয়নি নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা। যার ফলে মানুষ ভেজাল খাদ্য খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে অকালে। অপর্যাপ্ত বাজার নজরদারির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে।

১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতি উপজেলায় একটি করে মোট ৫৫৬টি স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের পদ সৃজন করেন। যা দিয়ে এ পর্যন্ত চলছে সারাদেশের  প্রায় ২৫ লাখ খাদ্য স্থাপনার দেখভাল। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ একইসঙ্গে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হলেও জনবল সংকটের কারণে হুমকির মখে পড়েছে জনগণের নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার। সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫৫৬ জন স্বাস্থ্য বিভাগের ও ৮৩ জন স্থানীয় সরকারের জনবল নিয়ে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চলছে। এখনো দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, খ ও গ শ্রেণির পৌরসভা, নতুন সিটি করপোরেশন, বিশেষায়িত হাসপাতাল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্থল বন্দর, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়, জাতীয় সংসদভবন, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় পদ সৃজন হয়নি। যদিও ৩৫টি পদ সৃজন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। অন্যদিকে ৩-৪ বছর মেয়াদি ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় ২২০০ জন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী পদ না থাকায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। কোটি কোটি টাকা প্রশিক্ষণের পিছনে ব্যয় হলেও পদ না থাকায় এসব ব্যয় গচ্চা যাচ্ছে সরকারের। তাই পদ সৃজন করে মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার

প্রভাষক, আলীনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ,

ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ