শিল্পমালিকদের উদ্যোগে বরিশাল বিসিক উন্নয়ন প্রকল্পে গতি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২২:২৯

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা দেশের অন্যতম বৃহত্ শিল্পনগরী বরিশাল বিসিকের উন্নয়ন কাজে গতি ফিরে আসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে শিল্পমালিকদের মধ্যে। এ শিল্পনগরীর অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন এবং উন্নত এলাকার অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। কাজ পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ তো দূরের কথা, শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদাররা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে বিসিক মালিক সমিতির উদ্যোগে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের খুঁজে এনে কাজ শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নানা বাঁধার মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কাজ গতি পায়। বর্তমানে ৭১ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে সবার সহযোগিতায়।

বরিশাল বিসিকের এই উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও বরিশাল শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাশার ইত্তেফাককে জানান, নানা জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি কাজে যে গতি এসেছে তাতে নতুন করে যে সময়সীমা বৃদ্ধি হয়েছে তাতে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। এছাড়া ভূমি উন্নয়নসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, পানির পাম্প ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।

বিসিক মালিক সমিতি সূত্র জানায়, নানা জটিলতা কাটিয়ে ২০১৭ সালে বিসিক উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে পাস হয় এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শুরু না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে এ উন্নয়নকার্যক্রম। এক পর্যায়ে শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ঠিকাদাররা নানা জটিলতা দেখালে মালিক সমিতি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে।

মালিক সমিতির একাধিক সদস্য জানান, উন্নয়ন বরাদ্দ যেন কোনো গাফিলতিতে ফেরত না যায় সেজন্য সবাই মিলে বিসিকের উন্নয়নে ফ্যাক্টরি কার্যক্রম ফেলে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে। বরিশাল বিসিক মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে চালু রাখতে মালিক সমিতি জরুরি ভিত্তিতে অবহেলায় পড়ে থাকা বিসিকের এ উন্নয়নকার্যক্রম দেখভাল করছে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে ৩৭৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উত্পাদনরত ১৭৩টি প্রতিষ্ঠান।