পাওনা ১৩০ কোটি টাকা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ২২:৩২

খুলনায় বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের কাছে ৬০০ পাট ব্যবসায়ীর প্রায় ১৩০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্যসায়ীদের সঙ্গে দেনা-পাওনা পরিশোধে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পাটকল বন্ধ ঘোষণায় ফুঁসে উঠেছেন এই জোনের প্রান্ত্রিক চাষিসহ সাধারণ পাট ব্যবসায়ীরা। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)          ঘেরাওসহ বৃহত্তর বর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে পাট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে ব্যবসায়ী সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ পাট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রান্তিক পাটচাষিসহ সাধারণ পাট ব্যবসায়ীরা পাট সরবরাহের মাধ্যমে পাটকলের চাকা সচল রাখেন। অথচ সরকার পাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে। পাটকল বন্ধ ঘোষণার পূর্বে শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে সরকার কয়েক দফা বৈঠক করলেও, যাদের কারণে পাটকল সচল থাকে তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা করা হয়নি।

সম্মেলনে জানানো হয়, পাট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পাট সরবরাহের সঙ্গে ব্যবসায়ী, এজেন্টসহ প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট। বিগত ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলের কাছে ২৬৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জোনের ৯টি পাটকলে পাওনা রয়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধের কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন খুলনা জোনের ৫৮০ জন ব্যবসায়ী। একদিকে ব্যাংকের চাপ, অন্যদিকে পুঁজি হারানোর ভয়ে দিশেহারা পাট ব্যবসায়ীরা। সাধারণ পাট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গত ১২ জুলাই খুলনা সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ১৯ জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনায় পাটমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে গণ-অবস্থানসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ পাট ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ মোড়ল। পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব গাজী শরিফুল ইসলাম অহিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. টিপু সুলতান, উপদেষ্টা শেখ আবু জাফর, কামরুজ্জামান মিঠু, শেখ ইমাম হোসেনসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।