পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘাটে আটকে আছে সহস্রাধিক যানবাহন। তবে জরুরি পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে গরুবোঝাই ট্রাক অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর—
শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উভয় ঘাটে আটকে পড়েছে প্রায় সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। পণ্যবাহী ও বড় পরিবহন পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে ফেরি কর্তৃপক্ষ। তবে ছোট ও মাঝারি কয়েকটি ফেরি দিয়ে জরুরি পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করছে। ঘাট সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে এখন প্রায় বিপত্সীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে চারটি ডাম্প ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আগে যে জায়গায় ফেরির পন্টুুন ছিল সেই স্থান ডুবে গেছে। এ কারণে হাই ওয়াটার লেভেলে পন্টুুন স্থাপন করা হয়েছে। কাঁঠালবাড়ী ঘাট ব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম মিয়া জানান, ১৭টির মধ্যে ১২টি ফেরি দিয়ে জরুরি সেবা চালু রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে গরুবোঝাই ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি ও গোয়ালন্দ সংবাদদাতা জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া ঘাট ও গোয়ালন্দ মোড়ে নদী পারের অপেক্ষায় প্রায় ৬ শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। এতে যানবাহনের চালক ও হেলপারদের দুর্ভোগ চরমে। দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে নৌরুটে চলাচলরত ফেরিগুলোকে পারপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে প্রতিটি ট্রিপে। নৌরুটে ছোট-বড় ১৩টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ২ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার অদূর রাজবাড়ী জুট মিলস পর্যন্ত অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। দৌলতদিয়া ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন ফেরিতে উঠা-নামা করছে। ট্রাফিক পুলিশ কন্টোল রুমে দায়িত্বে থাকা টিআই মো. আতাউর রহমান তালুকদার বলেন, যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামালবাহী ট্রাক, জরুরি ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, বর্তমানে ছয়টি রো-রো ও সাতটি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে চারটি ঘাট সচল রয়েছে।
