চলে গেলেন ভাষাসংগ্রামী ডা. সাঈদ হায়দার। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে রক্ত ঝরার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার গড়ে তুলেছিলেন। ঐ শহিদ মিনারের মূল নকশাকার ছিলেন বদরুল আলম। তাকে সহযোগিতা করেছিলেন সাঈদ হায়দার। পরে সেই শহিদ মিনার পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দেয়।
করোনাকে জয় করলেও নিউমোনিয়ার কাছে পরাজিত হলেন এ ভাষাসংগ্রামী। গতকাল বুধবার বিকালে একুশে পদক পাওয়া ভাষাসংগ্রামী ডা. সাঈদ হায়দার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। রাজধানীর উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সাঈদ হায়দারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
সাঈদ হায়দার ১৯২৫ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৫৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন। তিনি ইপিআইডিসির চিফ মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। চাকরির ধারাবাহিকতায় বিটিএমসি থেকে ১৯৮৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
পেশাগত কাজের অবসরে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতেন সাঈদ হায়দার। তার প্রথম বই ‘রোগ নিরাময় সুস্থ জীবন’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের পটভূমিতে তার লেখা ‘লোকসমাজ চিকিত্সাবিজ্ঞান’ নামের বৃহদাকারের বইটি বাংলা একাডেমি তিন খণ্ডে প্রকাশ করে। তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘পিছু ফিরে দেখা’। ভাষা সংগ্রামে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার সাঈদ হায়দারকে ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি ছিলেন একুশের চেতনা পরিষদের সহসভাপতি।
