নবীগঞ্জে জলমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃদ্ধ খুন, বাড়ীঘর ভাঙচুর

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ১৭:৪৩

নবীগঞ্জে জলমহাল নিয়ে বিরোধে অন্তত ২০টি বাড়ীঘরে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষে আঘাতে জাহির আলী (৭৫) এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। অন্তসত্ত্বা নারী, শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর দেবপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর (দেবপাড়া) গ্রামে বিজনা নদীর জলমহাল নিয়ে ওই গ্রামের বর্তমান মেম্বার রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও সাবেক মেম্বার মনর মিয়া গংদের সঙ্গে একই গ্রামের শফিক মিয়া, রয়মান মিয়া গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলা ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্কেল এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় নবীগঞ্জ থানায় ও তার কার্যালয়ে একাধিকবার বিষয়টি নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি বর্তমান মেম্বার রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও সাবেক মেম্বার মনর মিয়া গংরা সালিশের সময় রায় মানলেও এলাকায় এসে তা অমান্য করে। 

গত বুধবার সকালে কাচন বাড়ীর সামনে দিয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে শফিক মিয়ার পক্ষের লতিফ মিয়া ও তার স্ত্রীকে আটক করে মারধর করে। এ খবর শফিক লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে উভয় পক্ষের মধ্যেে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং রাতেই দাঙ্গা হাঙ্গামা এড়াতে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক থানার নিয়ে আসে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে এরই ঘটনার জের ধরে বর্তমান মেম্বার রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও সাবেক মেম্বার মনর মিয়ার লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শফিক পক্ষের লোকজনের বাড়ীঘরে এলোপাথাড়ি হামলা ও ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের পিকলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জাহির আলী নামে (৭৫) বৃদ্ধ মারা যান।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

ইত্তেফাক/এসি