যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালীর চলাঞ্চল জুড়ে বন্যার্তদের হাহাকার চলছে। উপজেলার স্থল, ঘোরজান, সদিয়াচাঁদপুর, উমারপুর, খাসকাউলিয়া, খাসপুকুরিয়া, বাগুটিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। এসব ইউনিয়নের কয়েক হাজার ঘর-বাড়িতে এখন এক থেকে দুই ফুট পানি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন, জেলার সর্ব দক্ষিণের উমারপুর ইউনিয়নের মিনিদিয়া, শৈলজানাসহ পাশের একটি চরে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরবাড়িতে বন্যার পানি। অনেকেই মাচা করে কোনো রকমে বসবাস করছেন। টিউবয়েল তলিয়ে গিয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। পাশাপাশি কাজ না থাকায় কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের সংসার।
মিনিদিয়া চরের আব্দুল জব্বারের স্ত্রী বৃদ্ধা মেহের-উন-নেছা আক্ষেপ করে জানান, গত সপ্তাহ খানেক ধরে বাড়িতে পানি। কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি। খোঁজও নেয়নি। সকালে পান্তা খেয়েছি। দুপুরের খাবার নেই। তার মত একই অবস্থা পুরো চরবাসীর।
এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জানান, বন্যায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য প্রায় ৯৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিতরণ শুরু হলে মানুষের কিছুটা অভাব কমবে।
এদিকে চৌহালী উপজেলার উত্তর খাসকাউলিয়া গ্রামে ছাবিয়া খাতুন (২) নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে এলাকার আবু সাইদের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে থাকা অবস্থায় উঠানে আসা বন্যার পানিতে শিশুটি হঠাৎ সকলের অজান্তে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তাকে উঠান থেকে উদ্ধার করে চৌহালী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইত্তেফাক/এসি
