দেশে কর্মসংস্থান না থাকায় ভাগ্য অন্বেষণে বিদেশে পাড়ি দিয়াছেন বাংলাদেশের ১ কোটির অধিক মানুষ। (তবে সকলেই যে ভাগ্য অন্বেষণে গিয়াছেন, তাহাও ঠিক নহে। কেহ কেহ যোগ্যতার সহিত উপযুক্ত পদ-পদবি লইয়াই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্মানের সহিত অবস্থান করিতেছেন।) কেহ বৈধ পথে, কেহ-বা অবৈধ উপায়ে। ভাগ্য অন্বেষণে বাহির হওয়া বাংলাদেশিরা ছড়াইয়া পড়িয়াছে সুদূর ব্রাজিল হইতে দক্ষিণ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য হইতে কানাডা অথবা সাইবেরিয়া হইতে নিউজিল্যান্ড। এমনকি আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলিতেও বাংলাদেশিদের পদচারণা বাড়িয়াছে। তাহাদের অনেকে যেমন বৈধ কাগজপত্র লইয়া আছেন, আবার তেমনি দালালের খপ্পরে পড়িয়া অবৈধভাবেও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করিতে এবং অবৈধভাবে উপার্জন করিতেছেন কেহ কেহ; কিন্তু এই করোনাকালে প্রবাসে অবস্থান করা বাংলাদেশিরা অনেকেই গভীর সংকটে নিপতিত হইয়াছেন। বিশেষত দুই ধরনের সংকটে তাহারা নিপতিত হইয়াছেন। বিভিন্ন দেশে ছোট-বড় কোম্পানিতে ছাঁটাই চলিতেছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশেও চাকুরি হারাইয়াছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই ছাঁটাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশে অনেক বাংলাদেশিও রহিয়াছেন। ইহার পাশাপাশি যাহারা নিজে একটা ব্যবসা দাঁড় করাইয়াছেন তাহাদের অনেকের করোনার কারণে ব্যবসায়ে এতটাই মন্দা দেখা দিয়াছে যে, টিকিয়া থাকা মুশকিল হইয়া পড়িয়াছে। দ্বিতীয়ত পত্রিকার সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ৩৩ হাজার বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হইয়াছেন এবং বিশ্বের ২০টি দেশে ১ হাজার ৫৫২ বাংলাদেশি মারা গিয়াছেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করেন। তাহারা করোনায় আক্রান্ত হইলেও ট্রিটমেন্টের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সাহায্যের জন্য উপস্থিত হইতে পারেন না। তাই ঘরে বসিয়া ধুঁকিতে হইতেছে, যাহা তাহাদের মৃত্যুঝুঁকিও বাড়াইতেছে। তাহারা নিজেদের কর্মস্থলেও যোগ দিতে পারিতেছেন না।
বিশ্বের প্রতিটি দেশই এখন করোনাজনিত কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিপাকে রহিয়াছে। আমরাও বিপদে আছি; কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয় কমিয়া যাওয়া এবং কাজে যোগদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশে রেমিট্যান্স-প্রবাহ কমিয়া গিয়াছে। বিশিষ্টজনেরা ধারণা করিতেছেন, সামনের মাসগুলিতে তাহা আরো কমিবে। আমরা জানি, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ একটি বিশেষ অবদান রাখে। এই প্রবাহ উল্লেখযোগ্যহারে কমিয়া গেলে আমাদের অর্থনীতিতে চাপ আরো সুস্পষ্ট হইয়া উঠিবে। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলির প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান থাকিবে, প্রবাসে বাংলাদেশিদের দিকে বৈধ উপায়ে যতটা সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দিতে হইবে। যেমন আমরা জানি, কিছুসংখ্যক প্রবাসী আছেন, বিশেষ করিয়া মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় যাহাদের বৈধ কাগজপত্র থাকিলেও তাহারা জানেন না অসুস্থ হইলে কোথায় যাইতে হইবে। অনেকে লিখিতে-পড়িতে জানেন না। এই ধরনের প্রবাসীর প্রতি প্রচার ও যোগাযোগ রক্ষা করিয়া তাহাদের জন্য মিশনগুলির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। ইহা কর্তব্যও বটে।
