কাস্টমস গোডাউন থেকে ২ লাখ মেমোরি কার্ড গায়েব

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ২১:৫৯

আদালতের রায়ের পরও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমসের গোডাউন থেকে গায়েব হওয়া ২ লাখ ১০ হাজার পিস মেমোরি কার্ড এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের মেমোরি কার্ডের চালানটি ফেরত পেতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন আমদানিকারক ব্যক্তি মামুন হাওলাদার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০ কোটি টাকা দাবি করেন। উপায় না পেয়ে গত বুধবার উচ্চ আদালতে ব্যবসায়ী একটি রিট আবেদন করেন। রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআরের চেয়ারম্যান, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা কাস্টমস কমিশনার ও কাস্টমস গোডাউন কর্মকর্তাকে বিবাদী করে ঐ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গতকাল ঢাকা কাস্টমস কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এটি চার বছর আগের ঘটনা। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি তার মালামাল নিতে গিয়ে দেখেন তার আমদানি করা পণ্য পরিবর্তন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ আমার কাছে করেন। কিন্তু পণ্য রাখার অন্তত সাত/আট মাস পরে অভিযোগ করায় আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে কিছুই পাইনি। কারণ ততদিন তো সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ থাকে না। কিভাবে ঐ পণ্য পরিবর্তন বা চুরি বা উধাও হয়েছে তা তদন্ত করতে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি রিপোর্টও দিয়েছে। ঐ ব্যবসায়ী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এখন আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১১ জুন হংকং থেকে মোবাইল ফোনের ২ লাখ ১০ হাজার পিস মেমোরি কার্ড আমদানি করেন মামুন হাওলাদার। তখন মাল খালাসের জন্য শুল্কাদি পরিশোধের আগে পর্যন্ত চালানটি জিম্মায় নেয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চালানটি সংরক্ষণ করা হয় বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গোডাউনে। যেখানে আটককৃত স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও রাখা হয়। শুল্ককর পরিশোধসাপেক্ষে ২১ দিনের মধ্যে চালানটি খালাসের কথা উল্লেখ করে রশিদও দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মাল খালাসে টালবাহানা শুরু করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন করেন মামুন হাওলাদার। আদালত ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আবেদন নিষ্পত্তি করে ব্যবসায়ী মামুনের পক্ষে আদেশ দেন। পরে কাস্টমস গোডাউন থেকে মাল আনতে গিয়ে মামুন দেখেন তার লাগেজ কাটা এবং খোলা। ভেতরের সব মেমোরি কার্ডও গায়েব।

ব্যবসায়ী মামুনের অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ সময় বিমানবন্দরে কাস্টমসের গোডাউনের কর্মকর্তা ছিলেন হারুন আর রশিদ। তার সঙ্গে বাইরের একটি অসাধু সিন্ডিকেটও জড়িত ছিল। তদন্তে হারুন অর রশিদকে অভিযুক্ত করে একটি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। এরপরও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি ঢাকা কাস্টমস কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মামুন বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে তার পণ্য না পাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করতে গিয়ে তিনি সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সে জন্য সরকারের কাছে তিনি ৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং কাস্টমস হাউজের গোডাউনের অসাধু ও মাফিয়া চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করেছেন।