বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভোগান্তির শিকার রোগীরা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩৯

বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যার কারণে এলাকাবাসী চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা চিকিত্সাসেবা ও সরকারি ওষুধ নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে রোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের সরকারিভাবে মানসম্পন্ন খাবার বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও তা পাচ্ছে না তারা। তবে জেলা সিভিল সার্জেন স্বাস্থ্য অফিস থেকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ সরবরাহের বিষয়টি জোর দিয়ে বললেও রোগীরা শুধু প্যারাসিটামল, খাবার স্যালাইন, কট্রিম, আয়রণ ও হিস্টাসিনসহ নিম্নমানের ওষুধ পাচ্ছেন।

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা যায়, এখানে ভর্তি হওয়া প্রতিটি রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ওষুধ এবং খাবার সরবরাহের নিয়ম থাকলেও কার্যত সেটা হচ্ছে না। এখানে ভর্তি থাকা রোগীদের মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে সেটা পাচ্ছে না তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, সকালে কলা, ডিম,                                                                                   পাউরুটি থাকলেও দুপুর ও রাতে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যর সিলভার বা ব্রিগেড জাতীয় মাছ রোগীদের খাবারের মেনুতে থাকে। যার টুকরোগুলোও আকারে খুব ছোট হয়ে থাকে। এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রোগীদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে রোগীরা কেন তা পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খোলা বাজারের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিত্সাসেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন জানান, গত তিন দিন ধরে এখানে ভর্তি রয়েছেন তবে এখনো কোনো ওষুধ পায়নি হাসপাতাল থেকে। এছাড়াও হাসপাতালের টয়লেট বাথরুমগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও স্বাস্থ্যসেবার কোনো উন্নতি হয়নি এসব নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক নিরাপদ দূরুত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতালে যেমন সঠিক চিকিত্সা নিতে পারছেন না, ঠিক তেমনি করোনার ভয়ে চিকিত্সকরাও রোগী দেখছেন দায়সারাভাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা. গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি যোগদানের পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আর চলতি বছরের জুন মাসে ওষুধ কেনার জন্য সরকারিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু বগুড়ার ড্রাগ কোম্পানি ওষুধ সরবরাহ না দিতে পারায় সেই টাকা পুনরায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফিরে গেছে। তবে আগামীতে এই সমস্যা থাকবে না বলে তিনি দাবি করেছেন।