রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ৯টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে। সাহেদ এসব ব্যাংকগুলোতে প্রথমে ছোট অঙ্কের আমানত হিসাব খুলতো। এরপর সেই ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতো এবং তারপর ঋণের আবেদন করতো। ঋণ নিয়ে সেসব টাকা পরিশোধ না করায় ৯ ব্যাংকের কাছে সে ঋণ খেলাপি। টাকা আদায়ে ব্যাংকগুলো মামলা করেও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি।
জানা গেছে, এনআরবি ব্যাংক সাহেদের কাছে পাবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এই টাকার মধ্যে সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের নামে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেনি। ঐ টাকা সুদাসলে মোট ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা হয়েছে। সাহেদ ঐ ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে সেটার বিলও পরিশোধ করেনি। সেটার ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংকটি দুটি মামলা করেছে।
এদিকে পদ্মা ব্যাংক সাহেদের কাছ থেকে পাবে সোয়া ২ কোটি টাকা। যন্ত্রাংশ কেনার নামে পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে ২০১৫ সালে ২ কোটি টাকা ঋণ নেয় রিজেন্ট হাসপাতাল। সেই টাকা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। অপর দিকে বেসরকারি পূবালী ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন সাহেদ করিম। এছাড়া ৫ লাখ টাকা গ্যারান্টি দিয়েছেন তিনি। এদিকে গ্যারান্টি দেওয়া ঋণও ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। ফলে তার কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ২০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংকে ৪৪ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ২৪ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকে তার নামে নেওয়া ১ লাখ টাকা খেলাপি পড়ে আছে।
অবশ্য রিজেন্ট কেসিএস, রিজেন্ট হাসপাতাল, অলবার্ট গ্লোবাল লিমিটেড, রিজেন্ট আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মো. সাহেদ, মোহাম্মদ সাহেদ নামে আটটি আমানত হিসাব রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকে। এ সব হিসাবে জমা রয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এই ব্যাংকটি থেকেও সাহেদ ক্রেডিট কার্ড নিয়েছিল, যার খেলাপি ৮০ হাজার টাকা।
