পাতানো খেলা রোধে জিরো টলারেন্স

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ২০:৪৬

এএফসির নির্দেশ

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বাংলাদেশের ফুটবলে একটা সময় পাতানো খেলা ক্যানসারে রূপ নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ফুটবল যখন মিরপুর গিয়েছিল, সেখানে গিয়ে ফুটবল ধ্বংস হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পাতানো খেলা। নানা ঝক্কিঝামেলা পেরিয়ে গাটের টাকা খরচা করে পাতানো খেলা দেখতে ঘৃণা বোধ করতেন ফুটবল দর্শক।  বাংলাদেশের বর্তমান ফুটবলের নিচের সারিতে পাতানো খেলার গন্ধ থাকলেও বড় আসরে পাতানো খেলার প্রকোপ কমেছে। প্রিমিয়ার লিগের এখন খুব কমই হয়। দুই-একটা শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে ক্লাব এবং কর্মকর্তাদেরকে। তবে এখন পাতানো খেলা কমলেও এএফসি মনে করছে কোভিড-১৯ এর কারণে পাতানো খেলার প্রকোপ বাড়তে পারে। কীভাবে বাড়বে সেটা বলেনি। তারা আশঙ্কা করছে। এমন কথা জানিয়েছে বাফুফে।

এএফসি মনে করছে কোভিড-১৯ মহামারিটি ফুটবল অঙ্গনকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। পাতানো খেলার কারণ ফুটবল সততা নষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। করোনার কারণে ফুটবল দুনিয়ায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সিন্ডিকেট এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।  

একটা রূপরেখাও জানিয়েছে কীভাবে পাতানো খেলা থেকে দূরে থাকতে হবে। আগেই বলে রাখা ভালো এএফসির এই আশঙ্কা বাংলাদেশকে নিয়ে নয়। তার সদস্য দেশগুলোকে নিয়েই আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাতানো খেলার কোনো ঘটনা যেন না ঘটে—তার জন্য বাফুফেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এএফসির নির্দেশ পাতানো খেলা রোধে জিরো টলারেন্স থাকতে হবে। সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা যেন এএফসিকে জানানো হয় এবং ফুটবলের স্বার্থে এএফসি তদন্ত কাজে সহযোগিতা করবে তারা।

ফুটবলের সঙ্গে জড়িত, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাসহ সব পর্যায়ে জড়িতদের নৈতিক দায়বদ্ধতা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে কোনো প্রকার বেটিং যেন না হয় সেটি মাথায় রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি গাইড লাইনে বলা হয়েছে—ইতিপূর্বে যারা পাতানো খেলা, বেটিংয়ে শনাক্ত হয়ে শাস্তি পেয়েছিল তারা যেন কোনোভাবেই এখন ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে।