করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ১ লক্ষের বেশি রহিয়াছে—বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা এখন বাংলাদেশসহ ২২টি। এই ২২টি দেশের মধ্যে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার দিক হইতে একেবারে তলানিতে রহিয়াছে মেক্সিকো ও বাংলাদেশ। এই তথ্য পাওয়া গিয়াছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ পরিসংখ্যান লইয়া কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসে। তাহাদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা অবধি করোনা শনাক্তের পরীক্ষার দিক হইতে ঐ ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তবে করোনায় আক্রান্ত শীর্ষ ১০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের চাইতেও অনেক কম পরীক্ষা হইয়াছে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট প্রভৃতি দেশে। যেই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি যত অধিক, সেই দেশ তুলনামূলক অধিক করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করিতেছে বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। এই ব্যাপারে কিছুদিন পূর্বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলিয়াছেন যে, আমেরিকা যদি বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের মতো কম করোনা পরীক্ষা করিত, তাহা হইলে আমেরিকায় খুব কমসংখ্যকই করোনা রোগী থাকিত। কথাটি লইয়া বিতর্ক হইয়াছে বটে, তবে তাহা ফেলনা নহে। আমেরিকায় গতকাল অবধি প্রায় ৩৭ লক্ষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হইলেও দেশটি প্রতি মিলিয়নে (১০ লক্ষে) করোনা পরীক্ষা করিয়াছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজারের বেশি। অন্যদিকে প্রতি মিলিয়নে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা হইতেছে মাত্র ৬ হাজার ১১১ জনের। করোনা শনাক্তের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। মেক্সিকোর অবস্থান সপ্তম, যাহারা প্রতি মিলিয়নে করোনা পরীক্ষা করিয়াছে মাত্র ৬ হাজার ৬৩ জনের।
উপমহাদেশে বাংলাদেশের তুলনায় করোনা সংক্রমণে ভারত ও পাকিস্তান আগাইয়া রহিয়াছে। করোনা পরীক্ষায় উহারা কমবেশি বাংলাদেশের কাছাকাছি। দেখা যাইতেছে জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্যের পরিপূরক হিসাবে করোনা পরীক্ষার পরিচয় মিলিতেছে। ব্যতিক্রম যে নাই, তাহা নহে। তবে আমেরিকার মতো রাশিয়া, স্পেন, ব্রিটেন, ইতালি, বেলজিয়াম, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার প্রভৃতি উন্নত দেশে করোনা পরীক্ষার হার প্রতি মিলিয়নে লক্ষের উপরে। অনেকেই মনে করিতেছেন, বাংলাদেশ হার্ড ইমিউনিটির দিকে ঝুঁকিয়াছে। কারণ, বাংলাদেশে পরীক্ষা কম হইলেও সেই অনুপাতে শনাক্তের হার বেশি। এখন পর্যন্ত গড়ে শনাক্তের হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি। করোনা রোগীর দিক হইতে শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশের চাইতে শুধু মেক্সিকো, ব্রাজিল ও চিলিতে পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার বেশি। বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষা কম হইবার একটি কারণ হইল, জুনের শেষে সরকারিভাবে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফি ২০০ টাকা আরোপ করা হইয়াছে। আরেকটি কারণ—মানুষের মধ্যে করোনা লইয়া প্রাথমিক আতঙ্ক বহুলাংশে কাটিয়া গিয়াছে। সেই কারণে করোনা উপসর্গ থাকিলেও অনেকেই পরীক্ষা করাইতে অনীহা বোধ করেন।
তবে করোনা পরীক্ষা করা হইলেও তাহা যে শতভাগ সঠিক ফল দেয়, তাহা নহে। সমগ্র দেশে আরটি পিসিআর কিট করোনা শনাক্তে ব্যবহূত হয়। এই কিটের সফলতার হার ৬৫-৭০ শতাংশ। সুতরাং করোনার বিষয়টি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করিতেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী শীত মৌসুমের পূর্বে করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হইলে তাহা ভয়াবহ আকার ধারণ করিতে পারে। সেই মর্মে প্রস্তুতি প্রয়োজন।
