করোনা মহামারির কারণে চাপের মুখে থাকা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৭৫ হাজার কোটি ইউরোর (প্রায় ৭৫ লাখ কোটি টাকা) একটি প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে ব্রাসেলসে আলোচনায় বসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতারা। এই পুনরুদ্ধার প্যাকেজের অর্থ কী পরিমাণ ঋণ এবং অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। এই মতভিন্নতা দূর করতেই গতকাল শুক্রবার মুখে মাস্ক পরে সরাসরি আলোচনায় বসেন নেতারা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
করোনা সংকটের কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নেন ইইউ নেতারা। কিন্তু মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় এবার সরাসরি আলোচনায় বসেছেন তারা। ডয়চে ভেলের এক খবরে বলা হয়েছে, ইইউ গঠনের পর এতো বড়ো মন্দার আশঙ্কা দেখা যায়নি। তাই পুনরুদ্ধার প্যাকেজের ব্যাপারে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ কাটছে না। তহবিলের পরিমাণ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী ইইউ বাজেটের মধ্যে সেই পুনরুদ্ধার কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জন করা যাচ্ছে না। ঋণভার ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে মৌলিক পার্থক্য রয়ে গেছে।
এই অবস্থায় সমঝোতা প্রস্তাব হিসেবে প্যাকেজের অর্থ দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শার্ল মিশেল। তিনি জানিয়েছেন, ২৫ হাজার কোটি ইউরো ইউরো ঋণ এবং ৫০ হাজার কোটি ইউরো অনুদান হিসেবে বণ্টনের মাধ্যমে সংশয় দূর করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদী ইইউ বাজেটের অঙ্কও সামান্য কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মিশেল। কিন্তু ‘ফ্রুগাল ফোর’ বলে পরিচিত নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, সুইডেন ও ডেনমার্ক অনুদানের অঙ্ক যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ শনিবারের মধ্যে ইইউ নেতারা পুনরুদ্ধার প্যাকেজ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছবেন এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও নতুন করে ব্যর্থতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সম্মেলন রবিবার পর্যন্তও গড়াতে পারে। তাতেও মতৈক্য না হলে চলতি মাসেই তৃতীয় প্রচেষ্টার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
ঐকমত্য অর্জনের ক্ষেত্রে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের বিশেষ ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি ইইউ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জন্মদিনে ব্রাসেলসে পৌঁছে মার্কেল বলেছেন, মতপার্থক্য অনেক বড়। আমরা এখনই কোনো সমাধান পাব কি না, সেটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে।
