রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে সাহেদ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ২২:৫৫

করোনার ভুয়া সনদ দিয়ে আলোচনায় আসা রিজেন্ট গ্রুপের মালিক মহাপ্রতারক মোহাম্মদ সাহেদ রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, কাগজপত্র সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গেই তার হাসপাতালটি কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন পায়। অধিদপ্তর কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা যাচাই-বাছাই করেনি। অনেকটা রকেট গতিতেই রিজেন্ট ও জেকেজির অনুমোদন হয়েছে বলে সাহেদ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান।  মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রিজেন্ট অনুমোদন পেয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে               কত টাকার লেনদেন হয়েছে সেই বিষয়ে সাহেদ এখনো মুখ খোলেননি। সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাহেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ তার ৯ দিনের পলাতক জীবনের নাটকীয় বর্ণনা দিয়েছেন। সাহেদ জানান, ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর গ্রেফতার এড়াতে তিনি প্রভাবশালী অনেকের কাছে দেনদরবার করেন। তবে পরিস্থিতি তার প্রতিকূলে চলে গেছে এটা বুঝতে পেরে গা ঢাকা দিয়েও রক্ষা হয়নি। এদিকে সাহেদের ফোনের কললিস্টে থাকা ‘রথী-মহারথীদের’ মোবাইল নাম্বার উদ্ঘাটন করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অভিযানের আগে ও পরে ঐ সব প্রভাবশালীর সঙ্গে তার কথাবার্তার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার তোলা ছবি ভাসছে  ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

অপরদিকে, মহাপ্রতারকরা রকেট গতিতে অনুমোদন পেলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) প্রথম থেকে গুরুত্ব দেয়নি অধিদপ্তর। অথচ বিএসএমএমইউয়ে পিসিআর মেশিনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া অনুমোদন নিতে গেলে তাকে অপমান করা হয়। মন্ত্রণালয়ে এক মিটিংয়ে একজন সচিবসহ ভিসিকে তিরস্কারের সুরে বলেন, আপনার করোনা পরীক্ষা করার কি দরকার? এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ভিসিকে অপদস্ত হতে হয়। পরে অনেক চেষ্টা করে অনুমোদন পায় বিএসএমএমইউ। এখন সেখানে করোনা রোগীরা আন্তর্জাতিক মানের সেবা পাচ্ছেন। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো ত্রুটি নেই।