নিউ ইয়র্কে ফাহিমের সন্দেহভাজন খুনি আটক

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ০০:৪৯

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহর সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীকে আটক করা হয়েছে। টাইরিস ডেভোন হাসপিল নামের ঐ সহকারীর বয়স ২১ বছর। গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে।

নিউ ইয়র্কে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে নৃশংসভাবে খুন হন ফাহিম সালেহ। মঙ্গলবার তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পাঠাও নামের যে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়, তার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন ফাহিম।

স্থানীয় সময় গতকাল সকালে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানায়, টাইরিস কিছু দিন আগে ফাহিম সালেহর ১ লাখ ডলার চুরি করে। একপর্যায়ে তার চুরি ধরা পড়ে যায়। পরে তাকে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য কয়েকটি কিস্তি নির্ধারণ করে সময়সীমা বেঁধে দেন ফাহিম। কিন্তু টাইরিস টাকা ফেরত দেওয়ার পথে না গিয়ে তার সাবেক বসকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে টাইরিস নিজেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, নাকি এজন্য কোনো পেশাদার খুনি ভাড়া করেছিল সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, সোমবার হত্যা করা হয় ফাহিম সালেহকে। হত্যাকারী ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড দিয়েই ক্রাইম সিন পরিষ্কারের সামগ্রী ক্রয় করেছিলেন। মঙ্গলবার আবারও হত্যাকারী ঐ অ্যাপার্টমেন্টে যান ফাহিমের মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে তা নিশ্চিহ্ন করার জন্য। সিসি টিভি ফুটেজ নিয়ে পুলিশ যে ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন খুনি বলে ধরে নিয়েছিল গ্রেফতার সহকারী সেই ব্যক্তি কি না, এটি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সেখানে একজন ব্যক্তি কালো পোশাক পরা এবং একটি ব্যাগ হাতে ফাহিম সালেহের সঙ্গেই লিফটে প্রবেশ করে। এ সময় দুই জনের মধ্যে বাক্য বিনিময়ও হয়। তবে কী কথা হয়েছে তা পুলিশের পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। ফাহিম সপ্তম তলায় তার বাসার ফ্লোরে নেমে গেলে কালো পোশাক পরা লোকটিও নেমে যায় এবং ফাহিমকে লক্ষ্য করে কিছু একটা ছুড়ে মারে। পরের কোনো দৃশ্যের বর্ণনা দেয়নি পুলিশ।

এদিকে ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফাহিম সালেহকে ‘ইলেকট্রিক স্টানগান (টেজার)’ দিয়ে দুর্বল করে ঘাড় ও গলার কাছে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে তার দেহ টুকরো করা হয়। ধনাঢ্য এই তরুণ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে চালু করেন জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’। গত বছর সোয়া ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিলাসবহুল কনডোমিনিয়ামটি কিনেছিলেন তিনি।